লালকেল্লার অনুষ্ঠানে গরহাজির বিরোধীরা, কেন বারবার বয়কট!

বার্তা ডেস্কঃ

লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান ফের বয়কট করল কংগ্রেস। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী—উভয়কেই লালকেল্লার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

পরপর দু’বছর স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান বয়কট করলেন দেশের দুই বিরোধী দলনেতা। ভারতীয় রাজনীতিতে এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন।

অন্যদিকে, নাম না করে বিরোধী শিবিরকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লা থেকে দেওয়া স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি বলেন, “কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা ভারতের মঙ্গল চান না এবং দেশের ভালো কিছু দেখতে পারেন না। চরম হতাশা থেকেই তাঁদের মধ্যে এমন বিকৃত মানসিকতার জন্ম নিয়েছে, যা দেশের ধ্বংস ও অমঙ্গল ডেকে আনে।” একই সঙ্গে দেশের সংবিধানকে পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের পরম সৌভাগ্য বলে ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দুই প্রধান নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। আয়োজক সংস্থা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে একটি সূত্রের দাবি, দুই বিরোধী দলনেতার জন্যই নির্ধারিত ও উপযুক্ত স্থানে আসন রাখা হয়েছিল।

মূলত ২০২৪ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই বয়কটের সূচনা। সে বছর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পঞ্চম সারিতে বসানো হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, এটি লোকসভার বিরোধী দলনেতার জন্য একটি চরম অপমান। রাহুল গান্ধী নিজেও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তারই প্রতিবাদে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও তিনি বয়কট করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অবশ্য ২০২৪ সালের সেই ঘটনার ব্যাখ্যায় জানিয়েছিল, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘টেবিল অব প্রেসিডেন্সি’ রীতি মেনেই আসন বণ্টন করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারে। সে বার অলিম্পিকে পদকজয়ীদের সম্মানে প্রথম সারিতে বসানো হয়েছিল, তাই রাহুল গান্ধীর আসন পঞ্চম সারিতে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি ছিল, পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত বিরোধী দলনেতাদের আসন কেবিনেট মন্ত্রীদের বরাদ্দ সারিতেই হওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *