কান টানতেই বেরোচ্ছে মাথা! গভীর রাতে অনুব্রতর দেহরক্ষী ও ‘পাথরসম্রাট’ টুলুর বাড়িতে হানা!
বার্তা ডেস্কঃ
বোলপুর: কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি ও সিবিআইয়ের পর এবার ময়দানে নামল রাজ্য পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সেহগাল হোসেন এবং ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠদের জালে তুলতে শুক্রবার গভীর রাতে বোলপুর জুড়ে শুরু হলো জোড়দার তল্লাশি অভিযান।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন সেহগাল হোসেনের ফ্ল্যাটে হানা দেয় জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। গরু পাচার মামলায় আগেই নাম জড়িয়েছিল সেহগালের, যার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার রাজ্য পুলিশ টাকার হিসাব নিকাশ ও গণনা মেশিন নিয়ে সেহগালের ফ্ল্যাটে পৌঁছানোয় নতুন কোনো অপরাধ চক্রের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্যের সঙ্গে সেহগালের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শুধু সেহগাল নন—তদন্তকারীদের নজর পড়েছে টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের ওপর। বোলপুরের খাসপাড়ায় প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর গড়ে ওঠা মিঠুর বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়িতে মাঝরাতেই ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্বজনহীন ওই বন্ধ বাড়িতে কেয়ারটেকার ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। কেয়ারটেকার পঞ্চানন গড়াই জানান, মাঝেমধ্যেই পরিবার নিয়ে এই বাড়িতে আসতেন মিঠু।
এখানেই শেষ নয়, একই রাতে পুলিশের হানার মুখে পড়েন বীরভূমের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের সিউড়ি সদরের হেড ক্লার্ক প্রবীর দাস। রাত প্রায় পৌনে দশটা নাগাদ জেলা পুলিশের টিম পৌঁছায় তাঁর বাড়িতে। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরাট সাম্রাজ্যের তথ্য ফাঁসের পর সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ম্যানেজারের ডায়েরিতে একাধিক সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছিল। প্রবীরবাবুর বাড়িতে সেই ডায়েরির সূত্র ধরেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রবীরবাবুর সহকর্মী শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, টুলু মণ্ডলকে কেন্দ্র করেই প্রবীরবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে, টুলু মণ্ডলের ‘সাম্রাজ্য’ থেকে কি এবার অনুব্রতর দেহরক্ষী সেহগালের দিকে নতুন কোনো গোপন ক্লু মিলবে? রাজ্য পুলিশের এই গভীর রাতের হানায় সরগরম বীরভূমের রাজনীতি।