বিমানে মেজাজ হারালেই বিপদ! কী হতে পারে আপনার শাস্তি?
বার্তা ডেস্কঃ
সম্প্রতি ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইন্ডিগো (IndiGo) বিমান প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বাতিল হওয়ায় এক মহিলা যাত্রী তুমুল অশান্তি শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান এবং প্রায় ৪৯ হাজার টাকার সরকারি সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি করেন। এর পরেই ওই যাত্রীকে ‘Unruly Passenger’ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ‘Unruly Passenger’ আসলে কারা? সহজ কথায়, বিমানবন্দর বা বিমানে সফরকালীন যে সব যাত্রী নিয়ম অমান্য করেন, কর্মী বা ক্রু সদস্যদের নির্দেশে কান দেন না, অথবা অন্য যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেন—তাঁদেরই ‘Unruly Passenger’ বলা হয়। শুধু সামান্য তর্ক বা রাগ দেখালেই এই তকমা মেলে না, আচরণের গুরুত্ব ও নিরাপত্তার ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যাত্রীদের খারাপ আচরণের ৪টি ধাপ বা লেভেল: ১. লেভেল ১: কর্মীদের গালাগালি বা মৌখিক হেনস্থা করা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি কিংবা মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া আচরণ। ২. লেভেল ২: কাউকে ধাক্কা দেওয়া, গায়ে হাত তোলা, লাথি মারা বা শারীরিক আক্রমণ। ৩. লেভেল ৩: বিমানের বড় ধরনের ক্ষতি করা বা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করা। ৪. লেভেল ৪ (২০২৬-এর প্রস্তাবিত নিয়ম): জোর করে বিমানের ককপিটে ঢোকার চেষ্টা করা।
কী শাস্তি হতে পারে? অভিযোগ উঠলেই কাউকে সাথে সাথে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় না। ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সংস্থা ওই যাত্রীকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন বিমানে ওঠায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিজিসিএ (DGCA)-র নিয়মে ‘No-Fly List’-এ নাম উঠতে পারে:
- লেভেল ১: সর্বোচ্চ ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা।
- লেভেল ২: সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা।
- লেভেল ৩: ন্যূনতম ২ বছর বা তার বেশি সময়ের নিষেধাজ্ঞা।
এর বাইরেও মারধর বা বিমান সংস্থার সম্পত্তি নষ্ট করলে পুলিশের আইনি মামলা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের মুখে পড়তে হতে পারে (যেমনটা ঘটেছে ভুবনেশ্বরের ঘটনায়)।
যাত্রীদের জন্য আপিলের সুযোগ: একবার ‘Unruly’ তকমা পেলেই সব পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা আবেদন করার আইনি সুযোগ থাকে।
মনে রাখা জরুরি: ২০২৬ সালে ডিজিসিএ এই নিয়ম আরও কড়া করার প্রস্তাব এনেছে, যেখানে মারাত্মক ভুলের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা সরাসরি ৩০ দিনের নো-ফ্লাই ব্যান দিতে পারবে। তাই বিমান বাতিল বা দেরি হলে ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু রাগের মাথায় কর্মীদের সাথে মারামারি বা ভাঙচুর করলে বিমানযাত্রায় বড়সড় নিষেধাজ্ঞা ও আইনি বিপদে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।