স্টেশনের জল খাচ্ছেন? সাবধান, ক্যাগের রিপোর্ট জানলে চমকে উঠবেন!
বার্তা ডেস্কঃ
স্টেশনের নামী কুলারের জল পান করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন সাধারণ রেলযাত্রীরা। গত ১২ আগস্ট সংসদে পেশ হওয়া ক্যাগের ‘ভারতীয় রেলওয়ের নন-সাবার্বান রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা ও স্বচ্ছতা’ শীর্ষক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক আশঙ্কাজনক তথ্য। দেশের বিভিন্ন রেলমন্ডলের ৫৯টি স্টেশনের পানীয় জল পরীক্ষা করে ওয়াটার কুলারের নমুনায় পাওয়া গিয়েছে বিপজ্জনক ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে পেটে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। সাউদার্ন, সাউথ সেন্ট্রাল এবং সেন্ট্রাল রেলের অধীনস্থ ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, হায়দরাবাদ, কোয়েম্বাটোর ও লোনাভালার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের পানীয় জলে মিলেছে এই জীবাণু। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্যাগের রিপোর্টে অবিলম্বে নিয়মিত জল পরীক্ষা এবং সরবরাহের মান নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেবল পানীয় জলের গুণমানই নয়, দেশের বড় বড় রেলস্টেশনগুলিতে ন্যূনতম পরিষেবা মিলছে না বলেও ক্যাগের পেশ করা নথিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমীক্ষা চালানো ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে প্রায় ৮৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৫৮টি স্টেশনেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, ডাস্টবিন এবং পাখার মতো মৌলিক সুবিধার তীব্র অভাব রয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, নয়াদিল্লি ও মুম্বই সেন্ট্রালের মতো দেশের প্রথম সারির জনবহুল স্টেশনগুলিতেও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের চিত্রটা অত্যন্ত হতাশাজনক। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন স্টেশনে জলের কল, পাখা ও ওয়াটার কুলারের মতো অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘটতি রয়েছে স্পষ্ট। দূরপাল্লার ও নিত্যযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশনগুলির পরিচ্ছন্নতা ও পরিকাঠামো দ্রুত উন্নত করার জোর পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাগ।