বন্যা কেড়েছে ঘর, কিন্তু হার মানেনি দেশপ্রেম!
বার্তা ডেস্কঃ
আসাম: চারিদিকে থিকথিক করছে কাদা, চারপাশে ভাঙাচোরা বাঁশের খাঁচা আর ঘরবাড়ির কঙ্কালসার ধ্বংসাবশেষ। সর্বগ্রাসী বন্যার তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে আপাতত যাঁদের দিন কাটছে ত্রাণ শিবির ও ত্রিপলের অস্থায়ী আশ্রয়ে, সেই মানষগুলির দেশপ্রেমের অদম্য উদ্দীপনাকেও টলাতে পারেনি চরম দুর্যোগ। সব হারানোর যন্ত্রণাকে পেছনে ফেলে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সগর্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন আসামের শিবসাগর জেলার নেপালি খুটি গ্রামের বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা।
সাম্প্রতিক মারাত্মক বন্যায় শিবসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ভেসে গেছে গৃহপালিত গবাদি পশুও। জল কমতেই পুরো এলাকা ছেয়ে যায় পুরু কাদার আস্তরণে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীদের একটি বড় অংশ ত্রাণ শিবির এবং পলিথিনের ডেরায় ঠাঁই নিয়েছেন।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতিও তাঁদের স্বাধীনতা দিবস পালনের উদ্যমকে ম্লান করতে পারেনি। গ্রামের সেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেই একজোট হন নেপালি খুটির বাসিন্দারা। নিজেদের হাতেই কাদা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে জায়গা তৈরি করেন, যাতে মর্যাদার সঙ্গে পতাকা তোলা যায়। ত্রাণ শিবিরের দেওয়া জামাকাপড় পরেই ভিটেমাটি হারানো মানুষগুলি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতীয় পতাকা তোলার বেদি তৈরি করেন।
এরপর ধ্বংসাবশেষ আর কাদার মাঝেই সগর্বে ওড়ানো হয় ভারতের তেরঙ্গা পতাকা। প্রতিকূলতম পরিস্থিতির মধ্যেও গ্রামবাসীদের এমন শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের দৃশ্য ইতিমধ্যেই দেশবাসীর নজর কেড়েছে।