ধ্বংসস্তূপে ৫ হাজার মানুষ, মৃত্যুপুরী ইন্দোনেশিয়া!
বার্তা ডেস্কঃ
ফ্লোরেস অঞ্চল: গত ১৫ অগস্ট, শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। সোমবার ভোরে দেশটির ফ্লোরেস অঞ্চলে নতুন করে ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। জার্মানির ‘GFZ Research Centre For Geosciences’-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিক আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের মানগাড়াই, ইস্ট মানগাড়াই এবং নাগাকেও অঞ্চল তিনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৯০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে এবং আরও ৪৫০টি ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপর্যয়ের ফলে বর্তমানে অন্তত ৫,০০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
মার্কিন ভূগর্ভস্থ জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, শনিবারের ৭.৭ মাত্রার মূল ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। সেই শক্তিশালী কম্পনের পর জারি করা হয়েছিল সুনামি সতর্কতা। শনিবারের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৯৫টি ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪৬টি কম্পন স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট টের পেয়েছেন।
ভূমিকম্পের ফলে দেশটির পরিবহন ও উদ্ধারকাজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ট্রান্স-ফ্লোরেস হাইওয়ে’ ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সড়ক পথ বন্ধ থাকায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।