লকআপে তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল সরকার!
বার্তা ডেস্কঃ
হালিশহর: উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর থানা এলাকায় পুলিশি হেফাজতে এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইডি)-র হাতে তুলে দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ আগস্ট, যখন তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় স্থানীয় তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটকে। আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর ৮ আগস্ট ভোরে হালিশহর থানার লকআপ থেকে বিরজুকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে কল্যাণীর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কথা স্বীকার করে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিক (আইও)-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগের দিনই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চটি ছোঁড়া ও ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠার ঘটনা ঘটে।
মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবারের আর্থিক সহায়তার স্বার্থে মৃতের স্ত্রীকে এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে সরকারি চাকরি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট) দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করা হয়।
ইতোমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়ার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত চলছে। তার মাঝেই সত্য উদঘাটনে সিআইডি তদন্তের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তাঁর মতে, সরকার কোনও কিছু আড়াল না করে নিরপেক্ষ বিচার সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।