বর্ধমানের এই ২শ বছরের পুরোনো পুজোয় মুসলিম পরিবারের নৈবেদ্য ছাড়া শুরুই হয় না কেন?

বার্তা ডেস্কঃ

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার খুন্না গ্রামে প্রায় ২০০ বছর ধরে উদ্যাপিত হয়ে আসছে এক অনন্য মনসাপুজো, যা আজও বহন করে চলেছে হিন্দু-মুসলিম সামাজিক সম্প্রীতির এক অপূর্ব বার্তা। জনশ্রুতি রয়েছে, গ্রামের এক মুসলিম পরিবারের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই পুজোর সূচনা। পরবর্তীতে তাঁরা পুজোর সার্বিক দায়িত্ব প্রতিবেশী এক ব্রাহ্মণ পরিবারের হাতে তুলে দিলেও আজও প্রাচীন নিয়ম ও ঐতিহ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। গ্রামের মাঝখানে একটি প্রাচীন বটগাছের তলায় ‘মা যমুনাগ’ হিসেবে দেবীর পুজো করা হয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, মনসাতলার গা ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে রয়েছে গ্রামের মসজিদ, যা দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক জ্বলন্ত নিদর্শন।

প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শেষ পঞ্চমী তিথিতে এই বার্ষিক পুজো ঘিরে গোটা গ্রামে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পুজোর পুরোহিত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, কাজী পরিবার থেকে পুজোয় নৈবেদ্য আসার পরই মনসাদেবীর আরাধনা শুরু করার রীতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুজোর যজ্ঞ শেষে হোম থেকে নেওয়া প্রথম তিলকটি কাজী পরিবারের সদস্যকেই দেওয়া হয়। এই পুজোয় কাজী পরিবারের পাশাপাশি পাশের বানেশ্বরপুর গ্রামের বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। কোনো বিভেদ ছাড়া দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করে এই প্রাচীন ঐতিহ্য আজও টিকিয়ে রেখেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *