কোচবিহারে বড়সড় চক্রান্তের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত!
বার্তা ডেস্কঃ
কোচবিহারের দিনহাটা সীমান্তকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির এক চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছেন রাজ্যের তদন্তকারীরা। পাক গুপ্তচর সন্দেহে রশিদুল, নূর নাসিরুদ্দিন ও সফিউলের পর এবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মিঠু রহমান ওরফে মিঠু বর্মনকে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, দিনহাটার বাসিন্দাদের নামে তোলা সিমকার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চালানো হতো এবং তা দিয়েই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোপন তথ্য সংগ্রহ করছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। পাশাপাশি, এই সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে প্রায় সাত লক্ষ টাকার জাল নোট প্রবেশ করানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। স্থানীয় পুলিশ এই চক্রের খবর আগে থেকে কেন পাননি, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তকারী দলের সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশ থেকে মনিটরিং করা হতো, যার নেপথ্যে রয়েছে রংপুর অঞ্চলের সক্রিয় সদস্য আকবর হোসেন ওরফে সম্রাট ও অমর। মূলত গরু পাচারের আড়ালে তৈরি হওয়া এই চক্রটি দিনহাটা থেকে প্রথমে সিমকার্ডগুলো ঢাকায় এবং সেখান থেকে সরাসরি ইসলামাবাদে পাঠিয়ে দিত। ধৃত ব্যক্তিরা মূলত এই চক্রের হাত হিসেবে কাজ করছিল এবং তাদের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণের পাকিস্তানি জাল নোট ভারতের বাজারগুলোতে ছড়ানো হচ্ছিল। রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং মন্ত্রী মালতি রাভা রায় জানিয়েছেন যে জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে প্রশাসন কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই চক্রান্তের পেছনে যুক্ত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।