বৃষ্টি থামতেই আতঙ্ক, গালুডির জলে ডুবছে পশ্চিম মেদিনীপুর!
বার্তা ডেস্কঃ
মেদিনীপুর: টানা নিম্নচাপের বৃষ্টি থামলেও স্বস্তি নেই পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরে। বৃষ্টি কমলেও তৈরি হয়েছে তীব্র জলযন্ত্রণা। একদিকে কেলেঘাই ও সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ায় মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডের জলে বিপদের মেঘ, সতর্ক প্রশাসন: ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে জল ছাড়ার ফলে কেশিয়াড়ি ও দাঁতন-১ ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে সুবর্ণরেখার তীরবর্তী বালিডাংরি, বেলমুলা, মহেশপুর, রাউতারাপুর, আমিলাশাই, ভসরা ও ডম্বুরকোলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। নদীবাঁধের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সেচ দপ্তরকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, “পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বন্যা দেখা দিলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকার্য শুরু করা হবে।”
জলমগ্ন গ্রাম, বিপন্ন আমন চাষ: কেলেঘাই নদীর জল বৃদ্ধির ফলে নারায়ণগড়ের কাঁঠালিয়া, দুড়িয়া, গোপীনাথপুর ও কেশিয়া গ্রামে জল ঢুকে পড়েছে। সবংয়ের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতেও দেখা দিয়েছে প্লাবন। বিপন্ন মানুষদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া শুরু হয়েছে। দাঁতন-২ ব্লকের বিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য নিজে ক্ষতিগ্রস্ত তালদা এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিলি করেন। তবে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে। একনাগাড়ে জলে ডুবে থাকায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। জল নামলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বোঝা যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জলের তোড়ে ভাঙল কালভার্ট, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ: বেলপাহাড়ির সন্দাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ডাহি গ্রামের ঢোকার মুখের একটি পুরানো কালভার্ট জলের তোড়ে ভেঙে পড়েছে। ফলে শ্রীনাথপুর, দুমকাশোল, ধুধুপাল সহ প্রায় ৫-৬টি গ্রামের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্কুল, হাসপাতাল বা বেলপাহাড়ি বাজারে যাতায়াতের জন্য এখন দীর্ঘ ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে বিডিও-র সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
জলযন্ত্রণা মেটাতে মহিষাদলে কাটা হলো ক্যানালের বাঁধ: পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে জমা জল দ্রুত বের করতে মঙ্গলবার রাতে হিজলি টাইডাল ক্যানালের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। মহিষাদল ব্লক প্রশাসন, সেচ দপ্তর, পুলিশ ও হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সহায়তায় স্থানীয় বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজার উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে ইটামগরা, অমৃতবেড়িয়া, নাটশাল সহ প্রায় ৪৫টি মৌজার জমা জল নামতে শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের স্বস্তি দিয়েছে। তবে বাঁধ কাটায় যাতায়াতে সাময়িক সমস্যা হওয়ায় বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন, বর্ষা শেষ হলেই হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সেখানে ১০০ মিটার দূরে একটি নতুন কংক্রিটের সেতু তৈরি করবে।
ত্রাণশিবির ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে মন্ত্রী: ভগবানপুরের বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। তিনি ভগবানপুর-২ ব্লকের বরজ এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ৮টি ত্রাণশিবিরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন।