যাদবপুর কাণ্ডে তোলপাড়, কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বুধবার রাতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপি-র (ABVP) মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত অনভিপ্রেত’ বলে বর্ণনা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। ক্যাম্পাসের এই সাম্প্রতিক গোলমালের পর সার্বিক পরিস্থিতি ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
উপাচার্য জানান, মুক্তচিন্তা ও ভিন্ন মতাদর্শের চর্চাই যাদবপুরের আসল সংস্কৃতি। সেখানে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু রাতের এই ঘটনা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবির সঙ্গেও পরামর্শ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, “পড়ুয়াদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আদালত আগে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিল— সিসিটিভি (CCTV) বসানো এবং পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন। সিসিটিভি ইতোমধ্যেই লাগানো হয়েছে, তবে পুলিশ ক্যাম্প বসানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন মতামত আদালতকে আগেই জানানো হয়েছে।”
কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (FETSU)-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এসএফআই (SFI) সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে এবিভিপি-র দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বাম সংগঠনগুলির অভিযোগ, এবিভিপি বহিরাগতদের এনে পড়ুয়াদের অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখে এবং ভবনের বাইরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
মিছিল ও জমায়েত নিয়ে উপাচার্যের বার্তা:
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দু’পক্ষই পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। একদিকে এসএফআই যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে জমায়েতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অন্যদিকে এবিভিপি গোলপার্ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছে। এই রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে উপাচার্য শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবেই হওয়া উচিত। এমন কিছু করা যাবে না, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।”