নিউ মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ৯ জনের!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: কলকাতার ব্যস্ততম নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা-ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৯ জন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। বাকি দুই ভারতীয়ের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ির ৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ নাগরিক যোগ নারায়ণ অগ্রবাল এবং ঝাড়খণ্ডের গিরিডির ১৯ বছরের তরুণ সন্দীপ পাসোয়ান। সন্দীপ সম্প্রতি কলকাতায় এসে হোটেলটির রিসেপশনিস্ট হিসেবে জীবনের প্রথম চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শর্ট সার্কিট থেকে শুরু হওয়া আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে রিসেপশনেই তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।
এই ঘটনার পর শহরের গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দমকল ও কলকাতা পুলিশ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় একাধিক মারাত্মক গাফিলতি থাকার অভিযোগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিস পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রতিষ্ঠানগুলি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দমকল। আধিকারিকদের দাবি, এর আগেও এসব প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
গাফলতির মাশুল ও প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা: প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হোটেলটিতে কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। জায়গা বাঁচাতে ঘরগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছিল স্লাইডিং ডোর এবং উপরিভাগে ছিল প্লাস্টিক/দাহ্য পদার্থের ফলস সিলিং, যার ফলে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আশ্চর্য করার মতো বিষয় হলো, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের দমকল সদর দফতর থেকে এই হোটেলের দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এবং কলকাতা পুরসভাও মাত্র ৯৫০ মিটারের মধ্যে। এত কাছে প্রশাসনিক দফতর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন এমন নিয়মবহির্ভূতভাবে হোটেলটি চলছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চরম প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্ত: ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক পলাতক। তবে তদন্তে বড় সাফল্য পেয়ে বুধবার গভীর রাতে এন্টালি মেন মার্কেট এলাকা থেকে হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার সময়কার প্রকৃত পরিস্থিতি ও কারণ জানতে হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মচারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা বিধিলঙ্ঘনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।