যাদবপুরে তছনছ নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম, দিলীপের হুঙ্কারে উত্তাল পরিস্থিতি!

বার্তা ডেস্কঃ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন SFI এবং বিজেপি সমর্থিত ABVP-র কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। এই রাজনৈতিক সহিংসতার বলী হলো ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিজড়িত শিল্পী নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘এমব্লেম’ (প্রতীক)।

সংঘর্ষের কারণ ও পাল্টা অভিযোগ: ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও কেন সাধারণ সভা (GB Meeting) ডাকা হলো—এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে গেলে এবিভিপি-র ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এবিভিপি কর্মীদের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য করে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে, যার ফলে গুরুতর আহত দুই কর্মীকে কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

ঘটনার পর বিজেপি বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যাদবপুর থানায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ ওঠে, রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসে ঢুকে এসএফআই-এর পোস্টার ও দেওয়াল লিখন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ধ্বংস: সংঘর্ষের মাঝে পড়ে পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় জাতীয় গৌরবের প্রতীক নন্দলাল বসুর তৈরি এমব্লেমটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিংহ অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে জানান যে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতীককে এভাবে পায়ে মাড়িয়ে ধ্বংস করা চরম নিন্দনীয়।

দিলীপ ঘোষের হুংকার: এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল এদের পুষে রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা স্লোগান আমরা সহ্য করব না। অতীতে যেমন আমাদের লোকেরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল, প্রয়োজন হলে আগামী দিনে আবারও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।”

মামলা কলকাতা হাইকোর্টে: যাদবপুরের এই অস্থিরতা ও সহিংসতার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নজরে আনা হয়েছে। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাঝে যাদবপুরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরায় বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *