১০ বছর পর রেকর্ড চিনি আমদানি, স্বস্তি ফিরবে কি সাধারণ মানুষের হেঁশেলে?
বার্তা ডেস্কঃ
উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই রান্নাঘরে চিনির ঝাঁজ! খুচরো বাজারে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চিনির দাম। হঠাৎ করে চিনির এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সবার পকেটেই বড়সড় টান পড়েছে। শুধু তাই নয়, মিষ্টি, গুড় সহ চিনি দিয়ে তৈরি একাধিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমজনতাকে বড়সর স্বস্তি দিতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রুখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।
এক নজরে সরকারের বড় সিদ্ধান্তসমূহ:
- ১০ লাখ টন চিনি আমদানি: ভারত বিশ্বে চিনির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র ১০ লাখ টন চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার চিনির ঘাটতি ও দাম সামলাতে সরকারকে বিদেশ থেকে চিনি আমদানির পথে হাঁটতে হলো।
- মজুতদারিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা: ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই আমদানিকৃত চিনি দেশে চলে আসবে। পাশাপাশি, বাজারে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, তার জন্য মজুতদারির ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত যে সমস্ত পাইকারি ব্যবহারকারী মাসে ১০ টনের বেশি চিনি কেনেন, তারা ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবেন না।
- শীঘ্রই কমবে দাম: বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্তের ফলে দ্রুতই চিনির দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে। বর্তমানে দেশের চিনি কলগুলিতে পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে, তাই ঘাটতির কোনো প্রকৃত কারণ নেই।
কেন হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি? মূলত অতীত মরশুমে কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বৃষ্টিপাতের সমস্যার কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকার রপ্তানি বন্ধ রেখে বাফার স্টক তৈরির ওপর জোর দিয়েছিল। তবে শীঘ্রই চিনির নতুন মরশুম শুরু হতে চলায় এবং কেন্দ্রের এই আমদানি নীতি কার্যকর হওয়ায় চিনির দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।