চা বাগানে রিসোর্টের দিন শেষ, উত্তরবঙ্গে সরকারের বড় ধাক্কা!

বার্তা ডেস্কঃ

উত্তরবঙ্গের শতাব্দী প্রাচীন চা শিল্প এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এক যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের জমি অনিয়ন্ত্রিতভাবে রিসোর্ট, হোম-স্টে বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের যে প্রবণতা বাড়ছিল, তাতে লাগাম টানতেই প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশিকা।

নীতিগত পরিবর্তন:

  • জমি ব্যবহারের সীমা হ্রাস: আগে চা বাগানের মোট জমির সর্বোচ্চ ৩০% পর্যটন ও সহযোগী কাজের জন্য ব্যবহার করা যেত। নতুন নিয়মে তা একধাক্কায় কমিয়ে ১৫% করা হয়েছে।
  • সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: বাগানের ক্ষেত্রফল যতই বড় হোক না কেন, পর্যটন সংক্রান্ত কাজে সর্বাধিক ১৫০ একর জমি ব্যবহার করা যাবে।

পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য:

  • মূল চা শিল্প ও চা পাতা উৎপাদন অক্ষুণ্ণ রাখা।
  • বাগান শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ও রুজি-রুটি সুনিশ্চিত করা।
  • অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে নষ্ট হতে বসা উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।

দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারজুড়ে ‘টি ট্যুরিজম’-এর যে প্রবল চাহিদা তৈরি হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে একটি নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পরিবেশপ্রেমী এবং শ্রমিক সংগঠনগুলি সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি একদিকে যেমন চা বাগানের ঐতিহ্য বজায় রাখবে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পকেও একটি সুশৃঙ্খল দিশা দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *