হায়দরাবাদ ট্র্যাজেডি নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সাংসদ, দিলেন ৩টি বড় যুক্তি!
বার্তা ডেস্কঃ
হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদে বেপরোয়া চার চাকা গাড়ির ধাক্কায় ২৬ বছরের এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বাবা তথা রাজ্যসভার সাংসদ লিঙ্গামানেনি রমেশ অবশেষে মুখ খুলেছেন এবং নিজের ২১ বছর বয়সী ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের ‘জনসেনা পার্টি’র এই সাংসদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর অভিযোগ উঠলেও, তিনি সেই সমস্ত অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকেও দোষী সাব্যস্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে সাংসদ লিঙ্গামানেনি রমেশ তাঁর ছেলের পক্ষে তিনটি মূল যুক্তি পেশ করেছেন:
১. তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া: সাংসদের দাবি, দুর্ঘটনার পর তাঁর ছেলে পালিয়ে যাননি। বরং বিন্দুমাত্র দেরি না করে আহত তরুণীকে নিজেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ২. পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত তথ্যপ্রদান: ঘটনার পর তাঁর ছেলে নিজেই পুলিশকে দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন এবং শুরু থেকেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে আসছেন। ৩. মেডিকেল টেস্টে নির্দোষ প্রমাণ: সাংসদ দাবি করেন, ঘটনার পর তাঁর ছেলের তিনটি পৃথক শারীরিক ও রক্ত পরীক্ষা (Medical Test) করা হয়েছিল। সবকটি পরীক্ষার রিপোর্টই ‘নেগেটিভ’ এসেছে, যা প্রমাণ করে যে দুর্ঘটনার সময় তাঁর ছেলে মদ্যপ বা কোনো ধরনের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন না।
সাংসদ রমেশ আরও বলেন, “১৬ আগস্টের এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতার পরিবারের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে। তবে আমরা কোনো কিছু গোপন করার চেষ্টা করছি না বা আইন এড়াতে চাইছি না। আইনের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
কী ঘটেছিল সেদিন? পুলিশ ও এফআইআর (FIR) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ আগস্ট দুপুরে মাধাপুরের একটি শপিং মলের কাছে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ভারতী মুখি। তিনি ওই মলের একটি পোশাকের দোকানে কাজ করতেন। সেই সময় অত্যন্ত দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে আসা একটি গাড়ি ভারতীকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মী।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিতে করেই ভারতীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ভারতীর সহকর্মী পূজা বিষয়টি তাঁদের স্টোরের ম্যানেজার অশ্বিন কুমারকে জানান এবং ম্যানেজার পুলিশে খবর দেন।
গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে পুলিশের ভূমিকা: অভিযুক্ত লিঙ্গামানেনি সঞ্জুশকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, আইনি নিয়ম মেনেই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের পরিবার পুলিশকে সবরকম সাহায্য করছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।