হড়পা বানে তছনছ নেপাল, ভারতেও কি বড় বিপদের সংকেত!
বার্তা ডেস্কঃ
তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার সকালে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বান ফের হিমালয় অঞ্চলের চরম প্রাকৃতিক ঝুঁকিকে সামনে এনে দিল। সকালে আচমকা নেমে আসা জলস্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, গাড়ি, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কোনো সতর্কবার্তা পাওয়ার আগেই মাত্র কয়েক মিনিটে তাণ্ডব চালিয়েছে এই অতিদ্রুত জলস্রোত।
বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ ও ‘গ্লফ’ (GLOF) আতঙ্ক
নেপালের আবহাওয়া দপ্তরের মতে, কেবল স্থানীয় অতিবৃষ্টি এই হড়পা বানের একক কারণ নয়। ঘটনার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিব্বতে ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেখান থেকেই তুষারধস বা হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে (‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা গ্লফ) এই বিপত্তি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইসিমোড’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগত শতক থেকে নেপালে ৯০টিরও বেশি গ্লফ-এর ঘটনা ঘটেছে।
কেন এতটা ঝুঁকিপূর্ণ নেপাল?
ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত ‘তরুণ’ ও অস্থিতিশীল।
- খাড়া পাহাড়ি ঢাল: সরু উপত্যকা ও খাড়া ঢালের কারণে বৃষ্টির জল ছড়ানোর সুযোগ না পেয়ে নদীপথে তীব্র স্রোত তৈরি করে।
- উষ্ণায়নের প্রভাব: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হিমবাহ গলছে এবং বরফ ও কাদার দুর্বল বাঁধে তৈরি হচ্ছে নতুন হিমবাহ-হ্রদ।
- মানব সৃষ্টি সংকট: অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ, বনভূমি ধ্বংস ও নদীপাড়ে অনিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামো এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
ভারতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমান্ত বিপর্যয়
ভোটেকোশি নদী তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালের ত্রিশূলী নদীর সাথে মিশে ভারতে ‘গণ্ডক’ নদী হিসেবে প্রবেশ করেছে। ফলে এই আন্তর্জাতিক নদী অববাহিকার দুর্যোগ ভারতেও দ্রুত প্রভাব ফেলছে। ইতিপূর্বে সুপ্রাগ্লেসিয়াল হ্রদ উপচে যেমন বিপর্যয় ঘটেছিল, এবারও এই হড়পা বানের প্রভাবে ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, হিমালয় অঞ্চলে ভূকম্পন, ধস ও নদীস্ফীতি একে অপরের সাথে শৃঙ্খল বিক্রিয়ার (Chain Reaction) মতো যুক্ত, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।