ভিডিও কলে ডিজিটাল গ্রেফতার! গোয়ার মহিলার ২.৬০ কোটি টাকা লুট, গ্রেফতার ৩
বার্তা ডেস্কঃ
ভিডিও কলের মাধ্যমে আইনি ও অপরাধমূলক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক মহিলার থেকে ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা হাতানোর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গোয়ার এই চাঞ্চল্যকর ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) ও কোটি কোটি টাকা পাচারের তদন্তে নেমে ইডি আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলো— ভূষণ সূর্যকান্ত মোয়ে, বিলাস নারায়ণ পাওয়ার এবং শৈলেশ দাগদু চ্যাভান। আদালত ধৃতদের আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই নিয়ে মামলাটিতে মোট পাঁচজন গ্রেফতার হলো।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুন মাসে নথিভুক্ত একটি সাইবার অপরাধের এফআইআর থেকে। প্রতারকরা নিজেদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিক পরিচয় দিয়ে গোয়ার ওই মহিলাকে ভিডিও কল করে এবং একটি মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের হুমকি দেয়। মানসিক চাপে ফেলে মহিলাকে একটি তথাকথিত ‘গোপন সুপারভিশন অ্যাকাউন্টে’ ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কেবল একটি সাধারণ জালিয়াতি নয়, বরং এর পেছনে কাজ করছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক সুসংগঠিত অপরাধ চক্র। প্রতারণার টাকা প্রথমে একাধিক ভুয়া ব্যাংকে জমা করা হতো এবং পরে তা নগদ টাকায় বদলে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করা হতো। দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ৩৩০টি অভিযোগ ও ১৬৩টি এফআইআর রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৪১৭.৪৯ কোটি টাকার জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।
ধৃত ভূষণ মোয়ে পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)। তাঁর বিরুদ্ধে ২১টি ভূয়ো কো ম্পা নি তৈরি করে ৪৩ জন বেনামি পরিচালকের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিলাস পাওয়ার আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে টাকা সরাতে এবং শৈলেশ চ্যাভান সেই টাকা নগদে রূপান্তর করতে সাহায্য করত। গত ২১ আগস্ট অভিযুক্তদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করে ইডি। বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূল মাথাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।