পৃথিবীর বিরলতম ‘গোল্ডেন ব্লাড’, যা বাঁচায় জীবন!

বার্তা ডেস্কঃ

বাইরে থেকে দেখলে সব মানুষের রক্তই লাল। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন এক অতি-বিরল ব্লাড গ্রুপ রয়েছে, যাকে চিকিৎসকরা চেনেন ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা সোনালি রক্ত নামে। এই রক্তের বিরলতার মাত্রা শুনলে চমকে যেতে হয়—সমগ্র পৃথিবীতে মাত্র ৪৩ জন মানুষের শরীরে এই বিশেষ রক্ত খুঁজে পাওয়া গেছে।

সাধারণত মানুষের রক্তে পজিটিভ বা নেগেটিভ মিলিয়ে বিভিন্ন আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর বা অ্যান্টিজেন থাকে। কিন্তু এই বিশেষ ব্লাড গ্রুপের ক্ষেত্রে রক্তে কোনো ধরনের আরএইচ অ্যান্টিজেনই থাকে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর আসল নাম ‘Rh-null’। কোনো অ্যান্টিজেন না থাকার কারণে এবং এর বিপুল মহত্ত্বের জন্যই একে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বলা হয়।

কেন এই রক্ত এত দুর্লভ? চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, জিনগত মিউটেশন বা বংশপরম্পরায় এই রক্ত সঞ্চারিত হতে পারে। তবে এর উপস্থিতি এতই নগণ্য যে চিকিৎসা জগতে এটি নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। এই রক্তের অধিকারীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—দুর্ঘটনা বা জরুরি প্রয়োজনে তাদের রক্ত বদলাতে (Transfusion) হলে বিশ্বজুড়ে উপযুক্ত দাতা খুঁজে পাওয়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে।

একাধারে জীবন রক্ষাকারী, অন্যদিকে চরম বিপজ্জনক ‘Rh-null’ বা গোল্ডেন ব্লাডকে বলা হয় প্রকৃত ‘সর্বজনীন দাতা’ (Universal Donor)। অর্থাৎ, এই রক্ত যেকোনো ব্লাড গ্রুপের মানুষকে অনায়াসে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু মূল ট্র্যাজেডি হলো, এই রক্তের অধিকারীরা নিজে কোনো বিপদে পড়লে পৃথিবীর ৯৯.৯% মানুষের রক্ত গ্রহণ করতে পারেন না। একমাত্র অন্য কোনো ‘Rh-null’ রক্তের মানুষের কাছ থেকেই তারা রক্ত নিতে পারেন। দাতার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এদের জীবন সবসময় এক অদৃশ্য ঝুঁকির মধ্যে কাটে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে এই রক্ত যেমন এক বিশাল আশীর্বাদ ও বিস্ময়, ঠিক তেমনই এর দুর্লভতা চিকিৎসকদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *