মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন, বন্যার স্রোতে ঝুলে প্রাণ বাঁচালেন যুবক!
বার্তা ডেস্কঃ
মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন: নেপালের প্রলয়ংকারী বন্যায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে বেঁচে ফেরারা
নেপালে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬০০ অতিক্রম করেছে। ভয়াল হড়পা বাণে নিমেষের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে একের পর এক শহর ও গ্রাম। তবে প্রকৃতির এই তাণ্ডবলীলা আর চরম মৃত্যুর কোল থেকেও আশ্চর্যজনকভাবে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে এসেছেন কয়েকজন মানুষ। কেউ বেঁচে থাকতে আঁকড়ে ধরেছিলেন ঝুলন্ত বিদ্যুতের তার, আবার কেউ দ্রুত গাড়ি চালিয়ে রেহাই পেয়েছেন মুহূর্তের ব্যবধানে।
‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই বন্যায় অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা মানুষের হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা। রাউতাহাটের ৩৬ বছর বয়সী রামবাচন সাহ জানান, ত্রিশুলি বাজারের একটি দোকানে কাজ করার সময় হঠাৎই বন্যার তোড়ে ভেসে যায় সবকিছু। জীবন বাঁচাতে উপায় না পেয়ে তিনি প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে একটি বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তার ধরে শূন্যে ঝুলে থাকেন। অলৌকিকভাবে নিজের জীবন বাঁচলেও, চোখের সামনেই জলের স্রোতে ভেসে যেতে দেখেন তাঁর সহকর্মীদের।
অন্য এক মর্মান্তিক গল্প ঝাপার বাসিন্দা তরুণ শচীনের। কাজের সূত্রে অন্য স্থানে থাকায় তিনি নিজে বেঁচে গেলেও, তীব্র জলের স্রোতে এক লহমায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাঁর পুরো পরিবার। বর্তমানে তিনি নিঃস্ব। অন্যদিকে মেকওয়ারপুরের রাজকুমার কার্কির অভিজ্ঞতাও কম রোমাঞ্চকর নয়; ট্রাক চালিয়ে সঠিক মুহূর্তে পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ায় তিনি একচুল ব্যবধানে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা এই মানুষগুলোর বেঁচে ফেরার গল্প এখন বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে।