মালদায় ফের ‘বাংলাদেশি’ বিতর্ক! তৃণমূলের নতুন প্রধানকে নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়

বার্তা ডেস্কঃ

মালদা: হরিশ্চন্দ্রপুরের লাভলী খাতুনের পর এবার বৈষ্ণবনগর— মালদায় ফের তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশি’ নাগরিক হওয়ার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কালিয়াচক ৩ ব্লকের গোলাপগঞ্জ পঞ্চায়েতের সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল প্রধান চেমানি বিবির বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।

অভিযোগকারী কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য কৃষ্ণ মণ্ডলের দাবি, চেমানি বিবি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের বাসিন্দা। সেখানে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৩ সালে পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে তিনি বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে গোলাপগঞ্জের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বিয়ে করে এখানেই থেকে যান। শুধু তাই নয়, ওবিসি সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে সব পরিচয়পত্রই তিনি ভুয়া নথির সাহায্যে তৈরি করেছেন এবং তাঁর বাবার নাম এখনও বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যালোচনায় (SIR) চেমানি বিবি ও তাঁর পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। তা সত্ত্বেও গত ২৭ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে বিজেপি, কংগ্রেস ও নির্দল সদস্যদের সমর্থনে কীভাবে তিনি নতুন প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণ মণ্ডল ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার (SP), বিডিও (BDO) এবং এসডিও-র (SDO) কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন চেমানি বিবি ও তাঁর স্বামী। তাঁদের দাবি, “নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কংগ্রেস চক্রান্ত করছে। আমরা এ দেশেরই বৈধ নাগরিক এবং সব সঠিক নথিপত্র রয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান, “প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখুক। তিনি যদি সত্যিই বাংলাদেশি হন, তবে তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে (Pushback) হবে।” অন্যদিকে, মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *