রক্তদান শিবিরে ভুয়ো ডাক্তার! ছাত্রনেতাদের পকেটে লাখ লাখ টাকা?
বার্তা ডেস্কঃ
September 1, 202612:33 pm
রক্তদান শিবিরের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জীবনদায়ী সামাজিক কর্মসূচীতেও চরম দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি পদে রক্ত সংগ্রহ ও নিরাপত্তার জন্য অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন রক্তদান শিবিরে আসল চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে টাকার বিনিময়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ‘অফিসার’ বানিয়ে পাঠানো হতো।
তদন্তে জানা গেছে, এই ভুয়ো ডাক্তারের চক্র চালানোর নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী এক ছাত্রনেতা সিন্ডিকেট। একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক শিবির পিছু চিকিৎসকের জন্য প্রায় ১৫০০ টাকা বরাদ্দ করলেও, পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হতো মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। মাঝের বাকি টাকা কমিশন হিসেবে ঢুকে যেত প্রভাবশালী ছাত্রনেতাদের পকেটে।
সম্প্রতি এই মর্মে স্বাস্থ্যভবনে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। একাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়াকে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই ভয়াবহ সত্য সামনে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস (NRS) এবং এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের তিন ছাত্রনেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই বেআইনি কারবার চালাতেন। আপাতত তাঁদের বিরুদ্ধে পাকাপোক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
রক্তদান শিবিরের মতো পবিত্র কাজের আড়ালে এমন কাটমানি ও অনিয়মের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ‘মেডিভিশন’-এর দক্ষিণবঙ্গ স্টেট কমিটির কনভেনর মানস বর্মণ এই দুর্নীতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছর ধরে এই বেআইনি সিন্ডিকেট চক্র শিকড় গেড়েছে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, স্বাস্থ্যভবনের তদন্তের জল কতদূর গড়ায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।