নন্দীগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার, শুভেন্দুর প্রথম ঘোষণায় চমকে গেল এলাকা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 1, 202612:33 pm
মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর নন্দীগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রেয়াপাড়ায় আয়োজিত এক প্রশাসনিক সভায় যোগ দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। গ্রামীণ পরিকাঠামো, রাস্তাঘাট, আবাসন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাপক পরিবর্তনের বার্তা দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এই অল্প কয়েক মাসের মেয়া অঞ্চলে আমরা যে কাজগুলো সম্পন্ন করেছি, তা নন্দীগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।” পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, জেলা পরিষদ এবং হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে নন্দীগ্রামে নতুন ৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু নতুন রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
আবাসন, কর্মসংস্থান ও মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা:
- কাজের সুযোগ ও নতুন বাড়ি: প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত জিরাম-জি জব কার্ড হোল্ডারদের জন্য ১২৫ দিনের কাজের শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে উপভোক্তারা ৩১৭ ধরনের কাজ করতে পারবেন। চলতি বছরে নন্দীগ্রামে ১১,৭০০টি নতুন বাড়ি তৈরির ঘোষণা করে প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মহিলা ক্ষমতায়ন: স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG)-র অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই এলাকার ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। আরও ৫ হাজার আবেদন বর্তমানে ভেরিফিকেশন স্তরে রয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ:
- হাসপাতাল ও বেড বৃদ্ধি: রেয়াপাড়া হেলথ সেন্টারের বেড সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে। মহেশপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়নের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নতুন মাতৃ ভবনের কাজ শুরু হয়েছে।
- মা-আহার ও জনৌষধি কেন্দ্র: সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে সুলভ মূল্যের জনৌষধি কেন্দ্র এবং মাত্র ৫ টাকায় ‘মা-আহার’ ক্যান্টিনের ঘোষণা করা হয়েছে (যেখানে সপ্তাহে দু’দিন মাছের পদ থাকবে)। এছাড়া ময়নাতদন্তের সুবিধার জন্য তৈরি হচ্ছে পুলিশ মর্গ এবং হরিপুরে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিমা ও থমকে থাকা প্রকল্পের গতি: পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগে ভুয়ো কার্ড ও সীমিত হাসপাতালের সুযোগ ছিল। বর্তমানে ‘আয়ুষ্মান’ ও ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা’-র অধীনে ১৯০০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে, যার সুবিধা ইতোমধ্যে ১৬,৮০০ জন মানুষ পেয়েছেন।
হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সংযোগকারী দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ব্রিজের জট কেটে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জমি হস্তান্তরের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় ২০২১ সাল থেকে আটকে থাকা রেল প্রকল্পও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এর পাশাপাশি সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ক্যানেল সংস্কার, আধুনিক বাস স্ট্যান্ড এবং কাঠের পুলের বদলে পাকা ব্রিজ তৈরির নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
পরিশেষে স্থানীয়দের আবেগকে ছুঁয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আমাকে ৮২ হাজার ভোটে জয়ী করেছিলেন। নন্দীগ্রাম সর্বদা আমার অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে থাকবে।”