৫ ঘণ্টার জেরার পর বিস্ফোরক অভিষেক, হুঙ্কার ছাড়লেন ওঁর যা ক্ষমতা আছে করুক!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট পার্টি অফিসের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও অশান্তির জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে থানায় প্রবেশ করার পর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরা শেষে বেরিয়েই পুলিশ ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “ওঁদের যা ক্ষমতা আছে করুক।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ এই পুরো ঘটনায় অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছে। একটি মাত্র সাইনবোর্ড সরানোর জন্য ১,০০০ পুলিশকর্মী পাঠানোকে তিনি গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ বলে দাবি করেন। প্রশাসনের এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এক মাস আগে নিউমার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনা বা নির্বাচনের পর আলিপুরে ৪,০০০ কন্ট্রোল ইউনিট পুড়ে যাওয়ার সময় যদি প্রশাসন ও ফায়ার ব্রিগেড এত সক্রিয় হতো, তবে বড় বিপদ এড়ানো যেত।”

তৃণমূল কর্মীদের অবৈধভাবে গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে অভিষেক জানান, নোটিশ ছাড়াই তাঁদের ১৩ জন কর্মীকে ধরা হয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে কর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সিসিটিভি ফুটেজও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্তাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না করে তিনি বলেন, তাঁরা কেবল নিজেদের ডিউটি পালন করছেন।

এরপরই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, বিজেপি নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেনি বলেই তাদের এত ভয়। ভোটের পর থেকে তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙানো এবং দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, মিথ্যা মামলায় তৃণমূল কর্মীদের জেলে পুড়ে দলকে শেষ করার পরিকল্পনা কোনোদিন সফল হবে না।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে সারদা-কাণ্ডের পুরনো অভিযোগ উসকে দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, টিভিতে ঘুষ নিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিত্বের প্রশাসনিক পদে থাকা বাংলার দুর্ভাগ্য।

কী ঘটেছিল ক্যামাক স্ট্রিটে? গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বাইরে থাকা একটি বিলবোর্ড সরাতে গেলে গণ্ডগোলের সূচনা হয়। পুরসভার দাবি ছিল, অনুমোদহীন ও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বিলবোর্ডটি সরানোর সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং হাতাহাতি ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *