১২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে তপ্ত বিশ্ব, ধ্বংসের মুখে কি আমাদের ভবিষ্যৎ?
বার্তা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ গতিতে বাড়তে থাকা উষ্ণতা নিয়ে আবারও এক চাঞ্চল্যকর ও বড় সতর্কবার্তা জারি করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তাঁদের সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে চলতি বছরের অগস্ট মাসটি নথিভুক্ত ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণতম অগস্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বৈশ্বিক স্তরের পাশাপাশি ভারতের আবহাওয়াতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যা আসন্ন দিনে বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জলবায়ু বিষয়ক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ‘ক্লাইমেট ব্রিংক’-এর তথ্য মতে, ২০২৬ সালটি সামগ্রিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলতি বছরে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় প্রায় ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের তাপমাত্রা সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে প্রাক-শিল্পযুগের গড় থেকে ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ২০২৪-এর সেই সর্বকালের রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক স্তরের পাশাপাশি ভারতের পরিস্থিতিও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর রেকর্ড শুরু হওয়া ১৯০১ সালের পর থেকে, অর্থাৎ গত ১২৫ বছরের ইতিহাসে এত গরম অগস্ট দেশবাসী আগে কখনো দেখেনি। শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের তাপমাত্রাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগস্টে ভারতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি এবং ভারতের আবহাওয়া ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
দেশজুড়ে চলা এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মেগাসিটিগুলোতে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বিপজ্জনক—প্রাক-শিল্পযুগের নিরিখে কলকাতার উষ্ণতা বেড়েছে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তালিকায় কলকাতার ঠিক পরেই রয়েছে বেঙ্গালুরু, যেখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে সেই সীমা পাকাপাকিভাবে পার হয়ে যাবে। এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। একই সাথে, আসন্ন ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির প্রভাবে এই বেসলাইন উষ্ণতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।