বাঙালির মর্যাদাই লক্ষ্য, কৃষ্ণনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিলেন পরমব্রত

কৃষ্ণনগরের হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক জনসভায় তৃণমূলের হয়ে প্রচারের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে নিছক কোনো ভোটযুদ্ধ নয়, বরং বাংলার আত্মসম্মান ও অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরমব্রতর মতো প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সরাসরি আক্রমণ শাসকদলের প্রচার কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বহিরাগত তকমা ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

মঞ্চ থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পরমব্রত স্পষ্ট জানান, বাইরের রাজ্য থেকে এসে এ রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ‘জ্ঞান’ দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। জাতীয় স্তরের পরিসংখ্যানের কথা মাথায় রেখে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ নারী সুরক্ষায় দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে। বহিরাগত নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বুঝতে ব্যর্থ যারা, তাদের নীতি এ রাজ্যে সফল হবে না।

বাঙালির মর্যাদা রক্ষার ডাক

বাংলার কৃষ্টি ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা এই লড়াইকে ‘বাঙালিয়ানা’র আত্মমর্যাদার সাথে যুক্ত করেছেন। পরমব্রতর এই অবস্থান আগামী দিনে সাধারণ ভোটাদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত বাঙালির আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস মূলত নিজেদের জনমুখী কাজের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংবেদনশীলতাকে হাতিয়ার করতে চাইছে।

এক ঝলকে

  • ২০২৬-এর নির্বাচনকে বাংলার আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
  • বিজেপি নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে নারী সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের এগিয়ে থাকার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
  • বহিরাগত নেতৃত্বের হাত থেকে বাঙালির মর্যাদা রক্ষার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে।
  • কৃষ্ণনগরের এই প্রচার সভার মধ্য দিয়ে তৃণমূলের হয়ে ময়দানে সক্রিয় হলেন এই তারকা পরিচালক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *