বিরিয়ানি না বিষ? থালায় সাজানো রঙিন খাবারের বিপদ চেনার ৫ টোটকা!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ফুড সেফটি দপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে উঠে এসেছে এক আতঙ্কজনক তথ্য। নামী-বেনামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস, চিকেন চাপ, আইসক্রিম এবং লস্যির মতো খাবারে মেশানো হচ্ছে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং।
FSSAI অনুমোদিত খাদ্যপযোগী রং খুব সীমিত পরিমাণে ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও, খরচ কমাতে বহু দোকানই কাপড়ে দেওয়ার সস্তার রং—যেমন Metanil Yellow, Auramine, Sudan Red ও Rhodamine B ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাসায়নিকগুলো পেটে গেলে হজমের সমস্যা ও অ্যালার্জি থেকে শুরু করে লিভার ও কিডনি অকেজো হতে পারে, এমনকি ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধিও ডেকে আনতে পারে।
কোন কোন খাবারে ঝুঁকি বেশি?
- বিরিয়ানি, পোলাও ও ফ্রায়েড রাইস (হলুদ বা কমলা করতে)
- চিকেন চাপ, তন্দুরি ও চিকেন ৬৫ (টকটকে লাল করতে)
- আইসক্রিম, কুলফি, লস্যি, মিষ্টি, সস ও ফুচকার জল
দোকানে বা বাড়িতে বসে ভেজাল রং চেনার ৫টি সহজ উপায়:
- ১. টিস্যু ও হাতের পরীক্ষা: এক চামচ বিরিয়ানি সাদা টিস্যু বা হাতে নিয়ে ঘষুন। হাতে জেদি হলুদ বা কমলা দাগ লেগে থাকলে তাতে কৃত্রিম রং আছে। প্রাকৃতিক জাফরানের দাগ এত গাঢ় হয় না।
- ২. জলের পরীক্ষা: এক গ্লাস জলে আইসক্রিম বা মিষ্টির রস ফেলুন। জল সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় হয়ে রঙ নিচে থিতিয়ে পড়লে বুঝবেন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো রয়েছে।
- ৩. রঙের তফাত লক্ষ্য করুন: অতিরিক্ত উজ্জ্বল, টকটকে লাল বা গাঢ় হলুদ খাবার এড়িয়ে চলুন। আসল বিরিয়ানির রং হালকা হলুদ ও সাদা মেশানো হয়। তন্দুরি চিকেনের স্বাভাবিক রং লালচে ইটের মতো, রক্ত লাল নয়।
- ৪. জিভ ও ঠোঁটের স্থায়িত্ব: খাওয়ার পর জিভ, ঠোঁট বা আঙুলে অনেকক্ষণ রং লেগে থাকলে বুঝতে হবে তা বিষাক্ত কৃত্রিম রং।
- ৫. দাম ও গন্ধ বিচার: আসল জাফরানের সুগন্ধ থাকে এবং তার উৎপাদন খরচ বেশি। তাই খুব সস্তায় অতিরিক্ত রঙিন বিরিয়ানি পেলে সতর্ক হন।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন? রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় ‘উইদাউট কালার’ বিরিয়ানি বা খাবারের বায়না করুন এবং কেবল FSSAI লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকেই খাবার কিনুন। বাড়িতে রান্নার ক্ষেত্রে কেমিক্যালের বদলে জাফরান, গুঁড়ো হলুদ বা বিটের রস ব্যবহার করা নিরাপদ। ভেজাল রঙের বিষয়ে নিশ্চিত হলে অবিলম্বে ফুড সেফটি দপ্তরে অভিযোগ জানান।