রাতে হইচই থামানোর শাস্তি! দিল্লিতে পিটিয়ে খুন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: রাতের বেলা বাড়ির সামনে মদ্যপদের তাণ্ডব ও চিৎকার-চেঁচামেচি থামাতে গিয়ে নির্মমভাবে আক্রান্ত হলেন মণিপুরের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী চংথাং বিক্রম সিং (৫৪)। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে একজন নাবালক রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিবার নিয়ে দিল্লির কিলোকরি গ্রামে বসবাস করছিলেন মণিপুরের বিখ্যাত গায়ক চংথাম কমলার ছেলে চংথাং বিক্রম সিং। নিজে একজন পরিচিত ওয়েস্টার্ন মিউজিক গিটারিস্ট হিসেবে ‘Ultra Vires’, ‘Phoenix’ এবং ‘Eastern Dark’-এর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, বিক্রমের বাড়ির উল্টোদিকে থাকা একটি ধাবার সামনে প্রতিনিয়ত রাতে মদ্যপ যুবকদের চরম হট্টগোল চলত।
রবিবার মাঝরাতে ফের একই তাণ্ডব শুরু হলে অতিষ্ঠ হয়ে নিচে নামেন বিক্রম। যুবকদের রাতে চেঁচামেচি না করে আস্তে কথা বলতে অনুরোধ করেন তিনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আচমকাই এক যুবক তাঁকে সজোরে ঘুষি মারে এবং আরও কয়েকজন মিলে রাস্তায় ফেলে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
হাসপাতালে মৃত্যু ও পুলিশি পদক্ষেপ খবর পেয়ে সানলাইট কলোনি থানার পুলিশ এসে সঙ্গীতশিল্পীর ছেলে ইয়াইফাবার সহায়তায় গুরুতর জখম বিক্রমকে উদ্ধার করে ‘হোলি ফ্যামিলি’ হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি দিল্লি এইমসে (AIIMS) ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার বিনীত কুমার জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২)/৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ঘটনার পর থেকেই দিল্লিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সানলাইট কলোনি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন মণিপুরি সংগঠন ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিনিধিরা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটিও (NESSDU) এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
এই হামলার নেপথ্যে কোনো জাতিগত বিদ্বেষ বা বর্ণবিদ্বেষ রয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে চলতি বছরে সাকেত, মালব্য নগর, নেহরু প্লেস ও মুনিরকায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের ওপর পরপর হেনস্থা ও হামলার ঘটনা ঘটায় দিল্লিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।