ধুলিয়ান সুজিত মণ্ডল হত্যাকাণ্ড! সিআইডি তদন্তে নবান্নের কড়া পদক্ষেপ
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া ধুলিয়ানের সুজিত মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডির (CID) হাতে তুলে দিল রাজ্য সরকার। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পরপরই নবান্ন থেকে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ঘটনা ও গ্রেফতার:
গত ২৮ অগস্ট শামসেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ানের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নিখোঁজ হন স্থানীয় যুবক সুজিত মণ্ডল। নিখোঁজ ডায়েরি করা সত্ত্বেও ধুলিয়ান আউটপোস্টের পুলিশ প্রথম দিকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখায়নি বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ। পরবর্তীতে সুজিতের খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হলে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজিতকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি এবং জনি শেখকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:
মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির যৌথ অনুসন্ধানী রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্তব্যে চরম গাফিলতির দায়ে একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- সাসপেনশন: ধুলিয়ান আউটপোস্টের ইনচার্জ এএসআই সুমন্ত কুমার দাস এবং শামসেরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শইফুল আলমকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
- লাইন ক্লোজ: শামসেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে ‘লাইন ক্লোজ’ করে তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বদলি ও শোকজ: ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার (SP) সুরিন্দর সিংকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে।
পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা:
শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিহত সুজিতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল ইচ্ছুক হলে এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে তাঁকে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড পদে চাকরি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সিআইডির নতুন তদন্ত ও নবান্নের এই কঠোর অবস্থান ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।