দিনে ধর্মের পাঠ, রাতে ২২ খুন! উত্তরপ্রদেশের থ্রিলারকেও হার মানানো ‘সাইকোপ্যাথ’ সদাশিব
বার্তা ডেস্কঃ
September 8, 202610:33 am
২০০২ থেকে ২০০৪ সাল— টানা দু’বছর এক অদৃশ্য ঘাতকের আতঙ্কে কেঁপেছিল তৎকালীন রায়বেরালি (বর্তমান আমেঠি) জেলার ফুরসতগঞ্জ। রাতের অন্ধকারে একের পর এক রহস্যময় খুন, অথচ পুলিশের হাতে কোনো স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছিল না। অবশেষে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশের জালে ধরা পড়ে ফুরসতগঞ্জেরই সাধারণ এক কাপড়ের ব্যবসায়ী ৫৭ বছরের সদাশিব সাহু। উন্মোচিত হয় ভারতের অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এক ‘সাইকোপ্যাথ’ সিরিয়াল কিলারের চেহারা।
টার্গেট কেবল ৪৫ ঊর্ধ্ব পুরুষ ঘাতকের মূল লক্ষ্য ছিল ৪৫ বছরের বেশি বয়সের পুরুষরা। ঘরের বাইরের বারান্দায় শুয়ে থাকা বা রাতের মেঠো পথে একা ফেরা মানুষদের ওপর হামলা চালাত সে। তবে কোনো নারী বা শিশুকে স্পর্শ করেনি ঘাতক। খুনের প্যাটার্ন ছিল অত্যন্ত নিখুঁত— পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে সোজা বুকের ওপর একটিমাত্র গুলি। ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন থাকত না, এমনকি মৃতের পকেট থেকে এক টাকাও চুরি হতো না। বুকে একদম ঠেসে ধরে গুলি চালানো হতো বলে বন্দুকের শব্দ বাইরে ছড়াত না। প্রতি মাসে একটি করে মোট ২২টি খুনের পর আতঙ্ক সামাল দিতে ফুরসতগঞ্জে নতুন পুলিশ থানা ও টহল বাড়ানো হলেও রহস্যময় ঘাতক অধরাই থেকে যায়।
আইজি সুলখান সিং ও এসটিএফের পদক্ষেপ অবশেষে তদন্তের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন লখনউ জোনের তৎকালীন আইজি সুলখান সিং। গঠন করা হয় বিশেষ টাস্কফোর্স (STF)। ছদ্মবেশে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয় গ্রামের কাঁচা রাস্তায়। নজরদারির সময় পুলিশের সঙ্গে বারবার তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে সদাশিব সাহু নামে ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তি। পুলিশের সন্দেহ বাড়ায় ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে আটক করা হয়।
ভয়াবহ জবানবন্দি ও ‘অদৃশ্য শক্তি’ আট পাতার দীর্ঘ জবানবন্দিতে সদাশিব স্বীকার করেন, ২০০২ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২২টি হত্যাকাণ্ড একাই চালিয়েছেন তিনি। কোনো শত্রুতা বা লুটের উদ্দেশ্যে নয়, তাঁর দাবি— এক ‘অদৃশ্য শক্তি’র আদেশে তিনি এসব খুন করতেন। কাউকে হত্যা করার পরেই নাকি তিনি পরম শান্তি পেতেন এবং রাতে শান্তিতে ঘুমাতেন।
দিনের বেলায় ধর্মীয় বই পড়া ও কাপড়ের দোকান চালানো শান্ত মানুষটি রাতে শিকারের উদ্দেশ্যে বের হতেন নকল দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে, সাদা পোশাক ও রবার সোলের শব্দহীন জুতো পরে। শিকারের কাছে গিয়ে শান্তভাবে কথা বলে মুহূর্তের মধ্যেই পিস্তল বুকে ঠেসে চালিয়ে দিতেন গুলি।
একটি শান্ত শহরের বুক চিরে ঘটে যাওয়া এই ২২টি নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং এক মনস্তাত্ত্বিক ঘাতকের ধরা পড়ার কাহিনি আজও ভারতের অন্যতম ঠান্ডা মাথার ‘সিরিয়াল কিলিং’-এর আতঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।