আদানি গোষ্ঠীর হাতে কি রাইটার্স বিল্ডিং! নড়ল রাজ্য সরকারের ভাবনা?
বার্তা ডেস্কঃ
September 8, 202610:33 am
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ বা মহাকরণকে নতুন রূপে সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব পেল আদানি গোষ্ঠী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আসা প্রাথমিক প্রস্তাব গ্রহণ করে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা ঐতিহাসিক এই ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ‘রি-ইম্যাজিনিং’-এর কাজ হাতে নিতে আগ্রহী।
🏢 যৌথ পরিদর্শন ও আনুমানিক ব্যয়
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে আদানি গোষ্ঠীর পরামর্শদাতা (অবসরপ্রাপ্ত আইএএস) সঞ্জয় ধাডে এবং রাজ্য পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিনয় মজুমদার যৌথভাবে রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক ভবনের কাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।
📋 আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবের মূল দিক
আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবে মূলত রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মূল স্থাপত্য ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে:
- ঐতিহ্য সংরক্ষণ: ভবনের ঐতিহাসিক ‘হেরিটেজ গ্লোরি’ ও প্রশাসনিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া।
- পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: ভবনের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী বজায় রেখে এর স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা।
- ইতিহাসের উপস্থাপন: বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান নিদর্শন হিসেবে ভবনটিকে নতুনভাবে ফুটিয়ে তোলা।
⚖️ রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভবনের বর্তমান কাঠামোগত পরিস্থিতি, কারিগরি দিক এবং আইনি ও প্রশাসনিক বিধি-নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী দিকনির্দেশ ও অনুমোদনের জন্য মুখ্যসচিবের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
🏛️ ১৭৭৭ থেকে ইতিহাস বহনকারী ভবন
১৭৭৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কো ম্পা নির কেরানিদের (যাঁদের ‘রাইটার্স’ বলা হতো) বসবাসের জন্য স্থপতি টমাস লায়ন রাইটার্স বিল্ডিংয়ের প্রাথমিক নকশা তৈরি করেন। পরবর্তীতে এটি বাংলার মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকে। স্থাপত্যের দিক থেকেও নব্য-ধ্রুপদী (Neo-Classical) শৈলী, সুবিশাল করিন্থিয়ান স্তম্ভ এবং ইন্দো-সারাসেনিক প্রভাব একে এক অনন্য ঐতিহাসিক মর্যাদা দিয়েছে।
🔄 পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রাথমিক পর্যায়ে পরিদর্শন সম্পন্ন হলেও এখনই সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্ত দফতর ও রাজ্য সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ার পরেই কাজের মডেল ও রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।