কৈলাসযাত্রায় হড়পা বানের ভয়াবহতা, নেপালের হোটেলে পড়ে থাকা ব্যাগই এখন স্বজনদের শেষ স্মৃতি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 8, 202610:33 am
নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকদের পড়ে থাকা মালপত্র দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। গত ২৬ আগস্টের পর থেকে ‘চলো যাই’ নামক একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া রাজ্যের ৩২ জন পর্যটকের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বজনেরা আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছেন এবং তাঁদের স্মৃতি হিসেবেই অন্তত হোটেলে ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত পেতে চাইছেন।
নবান্ন ও ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে খবর, পর্যটকেরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তাঁদের ভারী মালপত্র নেপালের হাসপাতালেই বা হোটেলগুলিতেই রেখে গিয়েছিলেন। সেই মালপত্র ভারতে পাঠানোর জন্য কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (ইকোনমিক) গোল্ডি শর্মা নেপালের শুল্ক দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেলকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে রক্সৌল, বারাউনী ও গোবিন্দঘাট হয়ে এই জিনিসপত্র পশ্চিমবঙ্গে আনা হবে।
উল্লেখ্য, ল্যাংট্যাং এলাকায় হিমবাহ ধসে লেন্দে খোলা, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় নামা কাদামাটির স্রোত ও হড়পা বানে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার রাত পর্যন্ত ১,৩৫৬টি দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজারের মতো মানুষ নিখোঁজ।
নিখোঁজ পর্যটকদের খোঁজে বহু পরিবার নেপালের থানা, হাসপাতাল ও বিপর্যয়স্থল ঘুরেও প্রিয়জনদের কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজদের শনাক্তকরণে নেপালে অবস্থানরত পরিজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর যাঁরা নেপালে যেতে পারেননি, তাঁদের জন্য রাজ্য পুলিশের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগে ডিএনএ নমুনা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।