দেশে ফিরলেই মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার? ভারতে বসে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার!
বার্তা ডেস্কঃ
September 9, 202612:33 pm
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিদ্যমান টানাপোড়েনের মাঝেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফের কঠোর বার্তা দিল বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হবেন হাসিনা ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর আর কোনো আপিল করার সুযোগ নেই এবং বাংলাদেশে ফিরলেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। সরকার তাঁর স্বেচ্ছায় ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকবে না, বরং আইনি পথেই তাঁকে ‘ক্যাপচার’ বা গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভারত থেকে মন্তব্যে ঢাকার আপত্তি ভারত থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশে যখন সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত সংকট ছিল, তখন ভারত থেকে হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে দেখে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রত্যর্পণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে কথা বলতে না দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান শর্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের সামনে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের শর্ত হিসেবেও এই প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একদিকে ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেখ হাসিনার আদালতে আত্মসমর্পণের খবরের গুঞ্জন, অন্যদিকে প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে চরম কূটনৈতিক জটিলতা বহাল রয়েছে।