বাথরুমে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচালেন অধ্যক্ষ! বিশ্বকর্মা পুজো নিয়ে রণক্ষেত্র বর্ধমান UIT, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কলেজ
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20267:34 pm
বর্ধমান: বিশ্বকর্মা পুজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (UIT) ক্যাম্পাস। আরএসএস-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বিবাদের জেরে পরিস্থিতি চরম আকার নেয়। মারধর, অধ্যক্ষের ঘর ভাঙচুর থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করতে হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ঘটনার মারাত্মক রূপ দেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধের ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সব পড়ুয়াকে দ্রুত হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে? প্রতি বছরের মতো এ বারও ক্যাম্পাসে বিশ্বকর্মা পুজোর অনুমতি চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায় একটি গোষ্ঠী। কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দেয়। কিন্তু এর পরই অন্য একটি গোষ্ঠী পৃথকভাবে পুজো করার দাবি তোলে। অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মা বিবাদ মেটাতে এক অধ্যাপককে মধ্যস্থতা করতে পাঠালেও সমাধান হয়নি। বুধবার রাতে সেই টানাপোড়েনই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।
পিস্তল দিয়ে মাথায় আঘাত, হাসপাতালে ভর্তি ৩ ছাত্র সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জখম ছাত্র সৌরভ কুমার অভিযোগ করেন, “আমরা সবাই মিলে পুজো করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্য পক্ষ তা মানেনি। ওরা আমাদের উপর হামলা চালায় এবং বন্দুক দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। আমার মাথায় ৫টি সেলাই পড়েছে।”
বাথরুমে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচালেন অধ্যক্ষ বিবাদের আঁচ এসে পড়ে প্রশাসনিক ভবনেও। উত্তেজিত ছাত্ররা অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে অধ্যক্ষ সুনীল কারফর্মা ও অন্য অধ্যাপকরা শৌচাগারে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে তাঁদের নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করে আনে। অধ্যক্ষ জানান, বাধ্য হয়েই নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ বন্ধ ও হোস্টেল খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দায় অস্বীকার এবিভিপি-র বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাস জুড়ে চরম উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তবে এই ঘটনায় নিজেদের নাম জড়ানো নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবিভিপি। তাদের দাবি, এই হিংসা বা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।