দিল্লির আকাশ থেকে মাটি, ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশের নজিরবিহীন নিরাপত্তা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 10, 20267:34 pm
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ঐতিহাসিক ব্রিকস সম্মেলনকে (BRICS Summit 2026) কেন্দ্র করে কার্যত সেনাশিবিরে পরিণত হয়েছে রাজধানী। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও ভিভিআইপি অতিথিদের সুরক্ষায় আকাশ থেকে জমিন—সর্বত্র সাজানো হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়।
ভারত মণ্ডপমে কমান্ডো ও স্নাইপারদের নজরদারি সম্মেলনের মূল কেন্দ্রস্থল ‘ভারত মণ্ডপম’। গোটা দিল্লির সুরক্ষার দায়িত্বে নামানো হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। সঙ্গে রয়েছে ১০০-র বেশি এনএসজি (NSG) কমান্ডো এবং ১,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল SWAT টিম। দিল্লির প্রতিটি উঁচু ভবনের ছাদে মোতায়েন থাকবেন স্নাইপাররা। পুরো নজরদারি ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রায় ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (DCP)।
আকাশপথে ড্রোন ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেল এবং সম্মেলনস্থল—বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের পুরো রুটেই থাকছে সর্বোচ্চ সার্ভিল্যান্স।
- নো-ফ্লাই জোন: নিরাপত্তা এলাকায় ড্রোন বা যেকোনো অননুমোদিত উড়ন্ত বস্তু ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- আকাশপথের নিরাপত্তা: যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় রাখা হয়েছে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান।
- রিয়েল-টাইম মনিটরিং: সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা ও কমান্ড রুমের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর চোখ রাখছে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম।
৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ভিভিআইপি কনভয় নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দিল্লির ৩৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলে কড়াকড়ি করা হয়েছে এবং ২২টি ডাইভারশন পয়েন্ট রাখা হয়েছে। ট্রাফিক সামলাতেই মাঠে থাকছে প্রায় ৫,০০০ ট্রাফিক পুলিশ কর্মী। GPS ট্র্যাকিং ও টেকনিক্যাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।
যেসব প্রধান রাস্তায় প্রভাব পড়তে পারে: সর্দার প্যাটেল মার্গ, আকবর রোড, জনপথ, বারাখাম্বা রোড, অশোকা রোড, তিন মূর্তি মার্গ, মাদার টেরেসা ক্রিসেন্ট, মথুরা রোড, টলস্টয় মার্গ এবং এপিজে আবদুল কালাম রোড সহ একাধিক সংলগ্ন পথ।
সাধারণ মানুষের জন্য কতটা বন্ধ দিল্লি? দিল্লি পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিরাপত্তার কড়াকড়ি হলেও পুরো দিল্লি স্তব্ধ হচ্ছে না। ভিভিআইপি চলাচলের সময় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাস্তাগুলিতে সাময়িক বাধা থাকবে, বাকি অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, দিল্লি মেট্রো পরিষেবা সাধারণভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবেই সচল থাকবে।