পলাতক অথচ পাচ্ছেন সরকারি বেতন! রাজ্যকে তুলোধোনা হাইকোর্টের
বার্তা ডেস্কঃ
September 11, 20268:33 am
দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ঘিরে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পলাতক থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে নিয়মিত বেতন পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুঘে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানিতে হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাষায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও মুখ্য প্রশ্নাবলী:
- পলাতকের পকেটে সরকারি বেতন: বিডিও পদ থেকে সরানোর পর তাঁকে কোথায় বদলি করা হয়েছে, তার কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ সরকারি কোষাগার থেকে তিনি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। তাঁকে আদৌ সাসপেন্ড বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জেলাশাসক ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
- পুলিশের অকর্মণ্যতা নিয়ে কটাক্ষ: মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে নিউ টাউনে ধরা পড়ার পর সহজেই জামিন পেয়ে যান প্রশান্ত। অন্য গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন তাঁকে তখন আটক করল না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।
- ‘প্রশাসন কি এতই দুর্বল?’: বিচারপতির সুর চড়িয়ে মন্তব্য করেন— “আপনাদের প্রশাসন কি এতটাই দুর্বল যে একজন অভিযুক্ত বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, হাইকোর্টে মামলা লড়তে নিজের আইনজীবী পাঠাচ্ছেন, আর পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না?”
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে দোকান থেকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় তত্পরকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট—দুই আদালতই তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে এবং সুপ্রিম কোর্ট ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।
জুলাই মাসে মামলাটি সিআইডির হাতে গেলেও চার্জশিটে অভিযুক্তের নাম না থাকা এবং তদন্তে নানা অসঙ্গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে গোটা বিষয়ে রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।