‘বাড়িতে খান, প্যান্ডেলে নয়’! বিতর্কিত মন্তব্যের পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে বাগেশ্বর
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20268:33 am
দুর্গাপুজোয় বাঙালিদের আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর অবশেষে সুর নরম করলেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে স্কটল্যান্ড থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। বাগেশ্বর বাবার সাফাই, তিনি কারও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে চাননি; কেবল পুজোমণ্ডপের পবিত্রতা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’ অনুষ্ঠানে এসে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পেছনে বা মঞ্চের নিচে আমিষ খাবার তৈরি ও খাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি দাবি করেছিলেন, নবরাত্রির সময়ে মণ্ডপ চত্বরে নোংরা পরিবেশ তৈরি করে আমিষ খাওয়া তাঁর পছন্দ নয়। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। শাসকদলসহ বিজেপি বিরোধী সব পক্ষই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয় এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদও শুরু হয়।
বিতর্ক চরমে পৌঁছলে স্কটল্যান্ড থেকে এক বার্তা দিয়ে বাগেশ্বর বাবা বলেন, “আমি আপনাদের খাবার নিয়ে বলতে যাব কেন? আপনারা তো আমাদেরই আপনজন। আমি দুর্গাপুজোর সময় শুধু দেবীর চারপাশের পবিত্রতা বজায় রাখতে বলেছিলাম। মাছ-মাংস প্যান্ডেলে না খেয়ে বাড়িতে বসে খান— এটুকুই ছিল বক্তব্য। আমি কারও জীবনে কোনো নিয়ম চাপিয়ে দিতে পারি না। তবে একজন ধর্মগুরু হিসেবে অহিংসার পক্ষে কথা বলা আমার দায়িত্ব।”
বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে দেখা যায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকেও। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অধিকার কারও নেই। তাঁর কথায়, “নবমীতে বাঙালি পাঁঠার মাংস আর অষ্টমীতে লুচি খায়, সেটাই খাবে। বাগেশ্বর বাবার প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও বাংলার মানুষ কী খাবেন, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার ওঁর নেই।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাগেশ্বর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “তিনি রাষ্ট্রবাদ ও অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন, কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।” তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির চাপেই বাগেশ্বর বাবা নিজের আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।