ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, পথে নামলেন মন্ত্রীরা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20268:33 am
নয়াদিল্লি: ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে এখন অভূতপূর্ব নিরাপত্তা। সম্মেলন স্থল ‘ভারত মণ্ডপম’-সহ দ্য লীলা প্যালেস, তাজমহল ও দ্য ললিত হোটেলের আকাশ ও মাটি জুড়ে বসানো হয়েছে কড়া নজরদারি। আকাশে টহল দিচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার চপার ও ড্রোন, আর রাস্তায় সাদা পোশাকে মোতায়েন শার্প শুটার এবং স্পেশাল ফোর্স।
গত বছর ‘এআই সামিটে’ খালি গায়ে আচমকা প্রতিবাদ ও ছবি ভাইরালের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। চিন ও রাশিয়া বিরোধী কোনও আপত্তিকর গ্রাফিতি যাতে দিল্লির দেওয়ালে না আঁকা হয় এবং কোনও ‘ফ্ল্যাশ প্রোটেস্ট’ না ঘটে, তার জন্য হোটেল ও অনুষ্ঠান স্থলের সংলগ্ন দেওয়ালেও কড়া নজর রাখছে গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল।
জঙ্গি হামলার ছক ও ‘ফ্ল্যাশ প্রোটেস্ট’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে ‘স্পেসিফিক অ্যাকশনেবল ইনপুট’ মিলেছে যে, পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী ‘শেহজ়াদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ দিল্লির ভিভিআইপি এলাকায় ‘লো-ইনটেনসিটি’ বা কম মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করার চক্রান্ত করতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভারত মণ্ডপম, আশপাশের অঞ্চল ও দিল্লি মেট্রো জুড়ে চালানো হচ্ছে চিরুনি তল্লাশি।
জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে লাইভ ট্র্যাফিক আপডেট সম্মেলনের কারণে আকবর রোড, রাইসিনা হিলস, ইন্ডিয়া গেট, চাণক্যপুরী-সহ প্রায় ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যাতে সম্পূর্ণ স্তব্ধ না হয়ে যায়, তার জন্য দিল্লি পুলিশ একটি অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে। ‘গুগল ম্যাপস’ এবং ‘ম্যাপলস’ (MapmyIndia)-এর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে লাইভ ট্র্যাফিক ডাইভারশন আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনও চালক ভুল করে বিধিনিষেধ থাকা রাস্তায় চলে গেলে নেভিগেশন অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প রুট দেখিয়ে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। ভিভিআইপি চলাচলের সময়ে রাস্তার ওপর থেকে যানবাহনের চাপ কমাতে মন্ত্রীরাও ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে বাসে চেপে একসঙ্গে ‘ভারত মণ্ডপমে’ পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা সংঘাতের কারণে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ কার্যত বিঘ্নিত। বিকল্প পথ হিসেবে ওমান উপসাগর ব্যবহার করতে গিয়ে ভারতীয় নাবিকরা হামলার মুখে পড়েছেন।
এই আবহে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকেই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামুদ্রিক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সংঘাত মেটাতে ‘আলোচনা ও কূটনীতি’র পথ বেছে নেওয়ার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।