কর্ণাটকে ইডির মেগা হানা, উদ্ধার কোটি কোটি টাকা ও বিদেশি সোনা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 202610:33 am
বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড়। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজ্যের পূর্ত (PWD) মন্ত্রী সतीश জারকিপোলি এবং তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ২১টি ডেরায় ম্যারাথন অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বেঙ্গালুরু, বেলগাভি, গোকাক এবং কলকাতা জুড়ে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর টানা তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মন্ত্রীর লোকসভা সাংসদ কন্যা প্রিয়াঙ্কা জারকিপোলি, পুত্র রাহুল, আত্মীয় ওয়াই ডি মঞ্জুনাথ এবং পিএস-সহ একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বাড়িতে হানা দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আফ্রিকায় সোনার খনি ও মেগা বিনিয়োগ
ইডি-র দাবি, জারকিপোলি পরিবারের সদস্যরা আফ্রিকার একাধিক বিদেশি সংস্থায় বিশাল অঙ্কের বেআইনি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কঙ্গোর ‘Eldorado Mining Resources’ এবং জাম্বিয়ার ‘Nava Aurum Mining Ltd’-এ প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের প্রত্যক্ষ অংশীদারিত্বের হদিশ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, কঙ্গোর একটি মূল্যবান সোনার খনি সংক্রান্ত সংস্থায় মন্ত্রী সতীশের নিজেরই প্রায় ৪০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
পাহাড়প্রমাণ নগদ ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার
অভিযানে ৩.৩ কোটি টাকার বেশি হিসাববহির্ভূত ভারতীয় নোট এবং প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা (মার্কিন ডলার ও ইউরো) জব্দ করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অনুমান, অননুমোদিত ও হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।
টেন্ডার দুর্নীতি ও ঘুষের কালো টাকা
তদন্তে উঠে এসেছে, পিডব্লিউডি দপ্তরের বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ‘Bharat Vanijya Eastern Private Ltd’ (BVEPL) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিপুল টাকার ঘুষ লেনদেন হতো। এই কালো টাকাই ঘুরপথে বিদেশে সম্পদ কেনা বা সোনার খনিতে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র ঘেঁটে বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।