ব্রিকসে পাকিস্তানের প্রবেশে বাধা কি ভারতের ভেটো?
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20262:33 pm
বিশ্বের শীর্ষ উদীয়মান অর্থনীতির জোট BRICS-এর সদস্যপদ পেতে দীর্ঘদিন ধরে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানোর পর তিন বছর কেটে গেলেও এখনও জোটের বাইরেই থেকে যেতে হয়েছে ইসলামাবাদকে। সাম্প্রতিক সময়ে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি জোটে অন্তর্ভুক্ত হলেও পাকিস্তানের ফাইলটি এখনও লাল ফিতেয় আটকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই দরজায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের তীব্র আপত্তি।
অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে BRICS-ই ভরসা
২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় BRICS-এ যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল। মূলত দেশের ৩.৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (IMF) উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতেই এই বিশ্বমঞ্চকে হাতিয়ার করতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। এমনকি জোটের ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (NDB)-এ প্রায় ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনে নিজেদের সদিচ্ছার প্রমাণও দিয়েছিল পাকিস্তান।
চিন-রাশিয়ার সমর্থন, তবু কেন আটকে আবেদন?
পাকিস্তানের আবেদনে চিন এবং রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। বেজিং ও মস্কোর সহায়তায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করলেও BRICS-এর কঠোর নীতিমালার কাছে আটকে গেছে পাকিস্তান। জোটের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনও দেশকে সদস্যপদ দিতে হলে বর্তমান সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সম্মতি প্রয়োজন। অর্থাৎ, একটি দেশও বিরোধিতা করলে নতুন সদস্যের প্রবেশ আটকে যায়।
পথের কাঁটা দিল্লির দীর্ঘদিনের আপত্তি
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই এখানে প্রধান নির্ণায়ক ভূমিকা নিচ্ছে। ভারত স্পষ্টভাবেই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। ফলে রাশিয়া ও চিনের মতো প্রভাবশালী দেশের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দিল্লির সবুজ সংকেত না মেলায় পাকিস্তানের আবেদন বিন্দুমাত্র এগোয়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে BRICS এবং পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ
সম্প্রসারিত BRICS এখন আর কেবল পাঁচ দেশের জোট নয়; বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং Purchasing Power Parity (PPP) অনুযায়ী বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই জোট। গ্লোবাল সাউথের এই শক্তিশালী মঞ্চে স্থান পাওয়া পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলেও, ভারতের আপত্তি না মেটা পর্যন্ত ইসলামাবাদের জন্য এই পথ কার্যত বন্ধ বলেই মনে করা হচ্ছে।