পাকিস্তানে দুই হিন্দু কিশোরীর মর্মান্তিক পরিণতি, আদালতের রায়ে ফিরল না বাড়ি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20263:33 pm
পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা আবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তান্ডো আল্লায়ার এলাকা থেকে কোলহি সম্প্রদায়ের সীতা (১৩) ও রুপি (১৪) নামের দুই নাবালিকা হিন্দু বোনকে দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে। এরপর তাঁদের জোর করে ধর্মান্তরিত করে আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গি নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন ‘সিন্ধ রেনেসাঁ’-র রিপোর্টে এই নৃশংস ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।
আদালতে চরম আকুতি ও বিতর্কিত রায় আইনি লড়াই চলাকালীন তান্ডো আল্লায়ার আদালতের বাইরে এক মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়ে। বাবামা ও স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য দুই নাবালিকা বোন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে আকুল আবেদন জানায়। তবে আদালত তাঁদের বাড়ি পাঠানোর আবেদন নাকচ করে সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাকিস্তানি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ভিঙ্গাস আদালতের বাইরের এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করতেই আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার মাত্র একদিন পরই তান্ডো আল্লায়ার থেকেই পানসি কোলহি নামে আরও এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ধারাবাহিক নিপীড়ন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সিন্ধ প্রদেশে পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানকার দরিদ্র ও প্রান্তিক হিন্দু পরিবারের তরুণী ও নাবালিকাদের তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তর ও বিয়ে দেওয়া প্রায় নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
পাশাপাশি মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি লুটপাট এবং কঠোর ধর্মীয় আইনের অপব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পাক সমাজকর্মী সোরাথ সিন্ধু প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের ভিটেমাটি না ছাড়ার অপরাধেই কি সিন্ধের হিন্দুদের ওপর এই পরিকল্পিত নির্যাতন চালানো হচ্ছে? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার রহস্যজনক নীরবতা ও ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেছে।