পিএ-র বাড়িতে ইডির হানা ও বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার, পদ ছাড়লেন হরিশ রাওয়াত!
বার্তা ডেস্কঃ
September 12, 20267:33 pm
উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখেই পাহাড়ি রাজ্যের রাজনীতিতে চরম ডামাডোল শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহায়ক (PA)-এর আস্তানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ম্যারাথন তল্লাশির জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে হাত শিবির। দলীয় চাপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে কংগ্রেসের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হরিশ রাওয়াত।
আপ্তসহায়কের বাড়ি থেকে যা যা মিলল ২০১৬ সালের রাজ্য সেবা নির্বাচন কমিশনের একটি পরীক্ষায় ওএমআর (OMR) শিট জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে নেমে শুক্রবার দেরাদুনে চন্দন সিং জিনার ঠিকানায় হানা দেয় ইডি। চন্দন জিনা বর্তমানে রাওয়াতের পিএ হলেও, ২০১৪-২০১৭ মেয়াদে তিনি রাওয়াত সরকারের ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (OSD) হিসেবে কাজ করেছেন। তল্লাশি শেষে তদন্তকারীরা জানান:
- নগদ টাকা: ৩২ লক্ষ টাকার হিসাববহির্ভূত নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।
- সোনা ও ঘড়ি: ২০০.৫ গ্রাম সোনার গয়না ও কয়েনের পাশাপাশি মিলল রোলেক্স, রাডো, পিয়াজে ও টিসোর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ১২টি দামি বিলাসবহুল ঘড়ি।
- অ্যাটাচমেন্ট: জিনা ও তাঁর পরিবারের ৫২.১৬ লক্ষ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
‘এক্স’ হ্যান্ডেলে রাওয়াতের সাফাই ও কটাক্ষ নিজের ঘনিষ্ঠ সহকারীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের পর সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ (X) দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান হরিশ রাওয়াত। জিনীকে “সজ্জন ও পরিশ্রমী” আখ্যা দিয়েও রাওয়াত স্পষ্ট জানান, পরীক্ষায় দুর্নীতি বা ওএমআর শিট বিকৃতির প্রমাণ থাকলে তা লজ্জাজনক।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে রাওয়াত লেখেন, “নির্বাচন এলেই আমার দরজায় এজেন্সি কড়া নাড়ে। কিন্তু এবার সরাসরি আমার বাড়িতে না এসে সহযোগীর ওপর অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক আবহ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।”
কংগ্রেসের দুই পদ থেকে ইস্তফা ভোটের আগে এই বিতর্কের জেরে যাতে দল কোনোভাবে দুর্বল না হয়, তার জন্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি একযোগে ছেড়ে দিয়েছেন: ১. উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (PCC) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ ২. কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য পদ
নিজের ইস্তফা ঘোষণার পাশাপাশি হরিশ রাওয়াত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর বা তাঁর তৎকালীন সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তিনি যে কোনো আইনি শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।