টোটোর দাপটে স্তব্ধ আসানসোল, চাকা বন্ধের বড় হুঁশিয়ারি!
বার্তা ডেস্কঃ
September 13, 20267:34 am
আসানসোল: প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরেও কাটল না অচলাবস্থা। বাসরাস্তায় টোটো ও অটোর অবাধ যাতায়াতের প্রতিবাদে দোমোহনি-আসানসোল রুটে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রইল মিনিবাস চলাচল। বাস মালিকদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে বাসরুটে টোটো বন্ধের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুরো আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়েই স্তব্ধ করে দেওয়া হবে মিনিবাস পরিষেবা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দোমোহানি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন টোটোস্ট্যান্ডটি সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বাস চালকদের চাকা ঘোরানোর অনুরোধ জানানো হলেও চালকদের সাফ কথা— মূল বাসরাস্তা থেকে টোটো না হটালে তাঁরা পরিষেবা চালু করবেন না।
আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, টোটো ও অটোর বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে বাস ব্যবসা এখন চরম লোকসানে। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক চরণজিৎ সিং জানান, শিল্পাঞ্চলের ১৮২টি মিনিবাস রুটের মধ্যে লোকসানের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০টি রুট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো আসানসোল মহকুমায় বাস চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ টোটো চালকেরা। তাঁদের দাবি, যাত্রীরা স্বেচ্ছাতেই টোটোতে চাপেন। তাছাড়া সন্ধ্যা ৬টার পর যখন মিনিবাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে এই টোটোই।
দুই পরিবহণ মাধ্যমের এই দড়ি টানাটানিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপচে পড়া ট্রেকার ও বিকল্প গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের।
সমস্যার কথা মেনে নিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্র্যাফিক বিভাগের ডিসিপি জে অবিনাশ ভীমরাও জানান, যানজট ও বিশৃঙ্খলা রুখতে হটন রোড ও জিটি রোডে ইতিমধ্যেই টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল রোডসহ অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বেআইনি টোটো নিয়ন্ত্রণে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।