একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় শৈশবের বন্ধু মোদীর দুয়ারে! ৮১ বছরের বৃদ্ধের জমি দখলের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
বার্তা ডেস্কঃ
September 13, 20266:33 pm
বহু দশক ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ন্যায়বিচারের আশায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হলেন তাঁরই স্কুলজীবনের সহপাঠী, ৮১ বছর বয়সি আসগর আলী বোহরা। মহারাষ্ট্রের মিরা রোডের বাসিন্দা আসগর আলী এই বিতর্কিত জমির একটি নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
গুজরাটের ভাদনগরের বিএন হাইস্কুলে নরেন্দ্র মোদী এবং আসগর আলী একসঙ্গে পড়াশোনা করেছিলেন। দীর্ঘ বছর পর দুই পুরনো বাল্যবন্ধুর এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার প্রার্থনা
পারিবারিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন আসগর আলী। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আসগর আলী জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত স্তরে তিনি মোদীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল আইনি বিবাদের দ্রুত অবসান ঘটে।
ছবি শেয়ার করলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী
মহারাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েক প্রধানমন্ত্রী মোদী ও আসগর আলীর এই বিশেষ সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি এবং একটি প্রেস নোট প্রকাশ্যে এনেছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব ও মনোযোগ সহকারে তাঁর শৈশবের বন্ধুর অভিযোগ শুনছেন। মন্ত্রী সরনায়েক আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাল্যবন্ধুকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সর্বাত্মক সাহায্য করবেন।
কী নিয়ে এই দীর্ঘদিনের জমি বিবাদ?
আসগর আলী বোহরার পেশ করা অভিযোগ অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নিম্নরূপ:
- ১৯৮৯ সালের চুক্তি: তিনি ১৯৮৯ সালে ভায়ান্দর ইস্টের নবঘর এলাকায় আনুমানিক ২,৮১০ বর্গমিটার জমি বৈধ রেজিস্ট্রি চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন।
- ২০১১ সালে জবরদখল: তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালে ‘স্বয়ম বিল্ডার্স’ এবং ‘সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস’ নামক দুটি সংস্থা ওই জমিতে অবৈধভাবে জবরদখল চালায়। উল্লেখ্য, ‘সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস’-এর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
- জালিয়াতি ও ভুয়া দলিল: বোহরার আরও দাবি, জমির মূল মালিককে অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়। এরপর জমিটি দুটি আলাদা ভাগে ভাগ করে দুই সংস্থার নামে মালিকানা দেখিয়ে দেওয়া হয়।
আইনি লড়াই ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ শুনানি
এই পুরো ঘটনায় ২০১৫ সালে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে স্থানীয় রাজস্ব দফতর, পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনের দপ্তরে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেন আসগর আলী।
তবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় পুর প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। এই জমি সংক্রান্ত বিবাদের জট পাকাতে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। উক্ত শুনানিতে অভিযুক্ত ‘সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস’ এবং ‘স্বয়ম বিল্ডার্স’-এর প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।