একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় সূর্যের চেয়ে ২০ গুণ বেশি উত্তাপ! ভারতে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরিতে বড় মাইলফলক
বার্তা ডেস্কঃ
September 14, 20268:03 pm
গান্ধীনগর: পরিচ্ছন্ন ও সীমাহীন শক্তির সন্ধানে ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে ভারত। গুজরাতের ‘ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চ’ (আইপিআর)-এর বিজ্ঞানীরা দেশের নিজস্ব ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের আওতায় ‘এসএসটি-১ টোকামাক’ (SST-1 Tokamak) যন্ত্রে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছেন। চরম উত্তপ্ত প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই যন্ত্রে সফলভাবে যুক্ত করা হয়েছে ৮২.৬ গিগাহার্ৎজ ও ৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘জাইরোট্রন’।
সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও ২০ গুণ বেশি তাপমাত্রা ভারতীয় এই ফিউশন পরীক্ষায় প্লাজমার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যা সূর্যের কেন্দ্রীয় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। ডোনাট আকৃতির টোকামাকের ভেতরে শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাহায্যে ভাসমান অবস্থায় এই চরম উত্তপ্ত প্লাজমাকে ধরে রাখা হয়। নতুন যুক্ত হওয়া জাইরোট্রনটি উচ্চ-কম্পাঙ্কের মাইক্রোওয়েভ শক্তি সরবরাহ করে প্লাজমাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
নিউক্লিয়ার ফিউশনের জাদু সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য নয়। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র যেভাবে শক্তি উৎপন্ন করে—অর্থাৎ চরম তাপ ও চাপে হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে একত্রিত করার মাধ্যমে বিপুল শক্তি তৈরি করা—সেই ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন’ (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়াকেই এখানে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ভবিষ্যতের গ্রিন এনার্জি বিজ্ঞান জগতে নিউক্লিয়ার ফিউশনকে পরিচ্ছন্ন বা সবুজ শক্তির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ হিসেবে ধরা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয় না বললেই চলে, আর এর জ্বালানিও প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যদিও এই প্রযুক্তি এখনই বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে না, তবে ভারতের এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি শক্তি সংকট সমাধানের পথে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।