একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় পুজোর আগেই মেগা দলবদল? পদ্মশিবিরে যোগ দিচ্ছেন ১৭ এনসিপিআই সাংসদ, শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে!
বার্তা ডেস্কঃ
September 14, 20268:03 pm
দুর্গাপুজোর আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে মহা-দলবদলের সলতে পাকানো শুরু হলো। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের মধ্যে ১৭ জন খুব শীঘ্রই সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন— কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার এই বিস্ফোরক দাবিতেই এখন তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। রাজনৈতিক অলিন্দে প্রবল জল্পনা, পুজোর ঠিক আগে বা পরেই সম্পন্ন হতে পারে এই মেগা দলবদল। উল্লেখ্য, এই সাংসদরা সকলেই পূর্বে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে পরবর্তীতে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন।
অ্যান্টি-ডিফেকশন ল এড়ানোর নিখুঁত অঙ্ক
এই দলবদলের পেছনে কাজ করছে এক সুচিন্তিত আইনি ও রাজনৈতিক কৌশল। দলত্যাগ বিরোধী আইন (অ্যান্টি-ডিফেকশন ল)-এর খাঁড়া এড়াতেই এই সমীকরণ তৈরি করা হয়েছে। জগদীশ বসুনিয়ার দাবি অনুযায়ী, বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন একযোগে বিজেপিতে যাচ্ছেন। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ ২০ জনের মধ্যে অন্তত ১৪ জন) একসঙ্গে দল ছাড়লে সাংসদ পদ খারিজ হয় না। ১৭ জন একসাথে দলত্যাগ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। আত্মবিশ্বাসী সুর চড়িয়ে তিনি জানান, “ওরাই আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছিল, পুজোর আগে-পরে আমরা বিজেপিতেই যাচ্ছি।”
তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে নিয়ে পৃথক কৌশল
বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন সরাসরি পদ্মশিবিরে যোগ দিলেও ব্যতিক্রম বাকি তিনজন— আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। নিজ নিজ কেন্দ্রের জনবিন্যাস এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ মাথায় রেখেই আপাতত তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করানো হচ্ছে না। তবে খাতায়-কলমে যোগ না দিলেও তাঁরা এনডিএ (NDA) জোটের অংশ হিসেবে কাজ করবেন এবং তাঁদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাজনীতির ময়দানে প্রতিক্রিয়া ও আইনি লড়াই
সাংসদ বসুনিয়ার এই দাবিতে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হলেও বিজেপি এখনই এই দায় নিতে নারাজ। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পুরো বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনার সাথে বিজেপির সরাসরি যোগ নেই।
অন্যদিকে, এই বিদ্রোহী সাংসদদের লোকসভার সদস্যপদ খারিজের দাবিতে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানানোর পাশাপাশি শীর্ষ আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে পুজোর পর রাজ্য রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।