একটি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য ও নজরকাড়া শিরোনাম দিন। শিরোনামটি অবশ্যই কোলন (:) মুক্ত হতে হবে, তবে আবেগ বা গুরুত্ব বোঝাতে অন্যান্য যতিচিহ্ন (যেমন বিস্ময়সূচক চিহ্ন ‘!’ বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ‘?’ কমা ‘,’) ব্যবহার করা যাবে। নিয়ম: – শুধুমাত্র ১টি শিরোনাম দেবেন – কোন ব্যাখ্যা, তালিকা বা একাধিক অপশন দেবেন না – শুধুমাত্র শিরোনামটি লিখবেন, অন্য কিছু নয় সোনারপুরে গ্রেফতার ‘ভুয়ো’ অনকোলজিস্ট, চিকিৎসকমহলে তোপের মুখে মেডিক্যাল কাউন্সিল
বার্তা ডেস্কঃ
September 15, 20268:25 pm
সোনারপুর: রাজ্যে ফের প্রকাশ্যে এল ভুয়ো চিকিৎসকের রমরমা কারবার। এবার পুলিশের জালে এক তথাকথিত ‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকা থেকে সোমবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিজেকে প্রখ্যাত অনকোলজিস্ট পরিচয় দিয়ে এমবিবিএস (MBBS) ও এফআরসিএস (FRCS)-এর মতো উচ্চশিক্ষার ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন তিনি।
ভুয়ো ডিগ্রি ও পুলিশি পদক্ষেপ অভিযুক্তের ডিগ্রি এবং নথিপত্রের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। উপযুক্ত নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই চক্রের শিকড় কত দূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।
কাঠগড়ায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য চিকিৎসা জগতে। একাধিক চিকিৎসক সংগঠনের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের অন্দরে একশ্রেণির অসাধু সদস্য টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে রেজিস্ট্রেশন ও জাল ডিগ্রি বিলি করেছে। সেই নথির জোরেই ভুয়ো চিকিৎসকরা শহর থেকে মফস্বলে অবাধে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল আমলের সমস্ত রেজিস্ট্রেশন ও সনদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে একাধিক সংগঠন।
প্রতিক্রিয়া ও নেতৃত্বদের দাবি:
- ড. তন্ময় মুখোপাধ্যায় (বিজেপি ডক্টর্স ফোরাম): মেডিক্যাল কাউন্সিলকে ‘পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়’ বলে তোপ দেগে তিনি জানান, ২০১৭ সালে সিআইডি তদন্তে প্রায় ৫০০ ভুয়ো ডাক্তারের নাম ও নামী বেসরকারি হাসপাতালে তাদের প্র্যাকটিসের তথ্য উঠলেও কোনো শাস্তি হয়নি। ২০২২ সালের কাউন্সিল নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্তমান সভাপতির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
- ড. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় (অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স): হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেড় দশক ধরে এই চক্র সক্রিয় বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজ্যে ভুয়ো ডাক্তারের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে উল্লেখ করে, ভুয়ো ডাক্তারদের পাশাপাশি জাল সনদ বিলিকারী মূল চক্রীদেরও কঠোর শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চান তিনি।
- অর্পণ পাল (জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক সংস্থা – NMO): এই সংকটকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য চরম হুমকি আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সপ্তম-অষ্টম শ্রেণি পাস ব্যক্তিরা নিজেদের এমডি বা এমএস দাবি করে রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সরকার এখনই কড়া পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধসে পড়বে।