ফোন আসতেই প্রেমিকার গলায় কোপ, বস্তাবন্দি দেহ!
বার্তা ডেস্কঃ
September 17, 20266:45 pm
পুরুলিয়া: প্রেমিকাকে খুন করার কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, একটি ফোনকলকে কেন্দ্র করে রাগের মাথায় মুহূর্তের ভুলে ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক ঘটনা— পুলিশি জেরায় এমনটাই দাবি করেছে পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণপল্লির মেসকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবক অমিত মাহাতো। তবে খুনের পরপরই রক্ত ধুয়ে প্রমাণ লোপাট করা এবং আটার বস্তায় মৃতদেহ মুড়ে বাইকে চাপিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টায় অভিযুক্তের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
একটি ফোনকল এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুলিশ সূত্রের খবর, বছর একুশের অমিতের সঙ্গে ১৯ বছরের ওই তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। মাঝে সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও সম্প্রতি তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারে যোগ দেওয়ার আগে শনিবার বিকেলে অমিতের সঙ্গে দেখা করতে রামকৃষ্ণপল্লির মেসে আসেন ওই তরুণী।
মেস যখন ফাঁকা ছিল, তখন কথা চলাকালীন তরুণীর মোবাইলে তাঁর অন্য এক বন্ধুর ফোন আসে। ওই যুবক বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে পড়াশোনা করেন। ফোনে সেই নাম বা কল দেখতেই রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারায় অমিত। মেসের আনাজ কাটার ছুরি দিয়ে সরাসরি প্রেমিকার গলায় কোপ বসায় সে। রক্তে ভেসে যায় ঘর। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধও করা হয় বলে অভিযোগ।
প্রমাণ লোপাটের মরিয়া চেষ্টা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অপরাধ ঢাকতে দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে অমিত। প্রথমে একটি ছোট বস্তায় দেহ ভরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায়, ঘরে তালা দিয়ে বাইরে গিয়ে দোকান থেকে আটার খালি বস্তা কিনে আনে সে। ঘরের রক্তের দাগ জল দিয়ে ধুয়ে, ইউএসবি কেবল (USB Cable) দিয়ে বস্তার মুখ বেঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে যায় নিচে।
এরপর নিজের মোটরবাইকের পেছনে সেই বস্তাবন্দি দেহ বেঁধে ১৮ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বলরামপুরের দিকে রওনা দেয় অমিত। পথে পেট্রল পাম্পে তেলও ভরে সে। তবে শেষরক্ষা হয়নি; রাস্তায় কর্তব্যরত ভিলেজ পুলিশের নজরে পড়ে যাওয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত।
প্রেতপুরী মেসবাড়ি, আতঙ্কে ছাড়ছেন আবাসিকরা ঘটনার পর থেকেই রামকৃষ্ণপল্লির ওই মেসবাড়িতে নেমে এসেছে গভীর আতঙ্ক। শহরের পরীক্ষা ও টিউশন থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি তল্পিতল্পা গোটাই বানিয়ে ঘর ছাড়ছেন অন্য আবাসিকরা। অনেক অভিভাবক এসে নিজের সন্তানদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মেসের মালিক ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ, ফোনও তুলছেন না।
বর্তমানে ধৃত অমিতের পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরেই বাকি তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।