মমতা-ঋতব্রত দুই শিবিরেরই বড় ধাক্কা, উপনির্বাচনে প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 18, 20268:55 am
উপনির্বাচনের মুখে বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— রাজ্য উপনির্বাচনে কোনো পক্ষই আর ব্যবহার করতে পারবে না ‘জোড়াফুল’ প্রতীক। এমনকি ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহারের ওপরও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
কে আসল তৃণমূল— তা নিয়ে দুই শিবিরের লড়াইয়ের জল গড়িয়েছিল নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী উপনির্বাচনে উভয় পক্ষকেই ভিন্ন নাম ও নতুন প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামতে হবে।
কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের মূল পয়েন্ট:
- নাম ও প্রতীক ফ্রিজ: আপাতত কোনো শিবিরই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবে না।
- নতুন নামের সুযোগ: দুই পক্ষই নিজেদের দলের নামের সাথে ‘তৃণমূল’ শব্দটি যুক্ত করতে পারবে, তবে মূল নামটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- জরুরি ডেডলাইন: ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে পছন্দসই ৩টি বিকল্প নাম এবং ৩টি মুক্ত প্রতীকের (Free Symbols) তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে।
- পৃথক প্রতীক বরাদ্দ: জমা পড়া তালিকা থেকেই উভয় পক্ষকে আলাদা আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে কমিশন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মই বহাল থাকবে।
২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম জোড়াফুলহীন ভোট ১৯৯৮ সালে ঘাসফুলের ওপর জোড়াফুল চিহ্নটি নিজের হাতে এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই প্রতীক ছাড়া।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
- ঋতব্রত শিবির: বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “বাংলার ৮০ শতাংশ জনপ্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে আছেন। আশা ছিল প্রতীক আমরাই পাব। তবু কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি, লড়াই চলবে।”
- কালীঘাট শিবির: দলীয় প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি তিনি দলের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন।
- বিরোধীদের তোপ: সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “প্রতীক ডাস্টবিনে চলে গিয়েছে, আর ফিরবে না।” অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল কমিশনকে “বিজেপির হাতের পুতুল” বলে তোপ দেগে মমতাকে প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।