শীতের বিদায় ঘণ্টা কি বেজে গেল? সুপার এল নিনোর ভয়ে কাঁপছে বিশ্ব!
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 20267:11 am
২০২৬-এর নভেম্বর থেকে বদলে যেতে চলেছে ভারতের আবহাওয়া। দেশের একাধিক অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বহু গুণ বেশি গরম এবং শুষ্ক জলবায়ুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৮০ জনেরও বেশি পরিবেশ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানী একযোগে সতর্ক করে জানিয়েছেন—একটি অতি-শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño) ভারতের দিকে ধেয়ে আসছে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এই এল নিনোর তীব্রতা সাধারণ বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে, যার প্রভাবে ভারতের নদী, জঙ্গল, পাহাড়, কৃষি এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সুপার এল নিনো আসলে কী? ১৬ সেপ্টেম্বর ‘জেনোডো’ (Zenodo) জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিক হারে উষ্ণ হয়ে ওঠার ফলেই এই প্রাকৃতি পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতে সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হয় এবং তাপমাত্রা চরম সীমায় পৌঁছায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি আশঙ্কাজনক।
কী কী বড় বিপদের ইঙ্গিত?
- উধাও হতে পারে কনকনে শীত: এই সুপার এল নিনোর দাপটে এবার ভারতে হাড়কাঁপানো শীতের দেখা মিলতে পারে মাত্র কয়েকদিনের জন্য। বছরের শেষেই রেকর্ড গরমের মুখোমুখি হতে পারে দেশ।
- তীব্র জলসঙ্কট ও খরা: অনাবৃষ্টির ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ অঞ্চল, মরুভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে উঠবে।
- কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: বৃষ্টির অভাবে কৃষিকাজ ও পশুপালন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সরাসরি আঘাত হানবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
- শহরে তীব্র দাবদাহ: কংক্রিট এবং পিচের রাস্তার কারণে শহরাঞ্চলগুলোতে ‘হিট আইল্যান্ড’ তৈরি হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শহরের পরিবেশের জন্যও বড় ঝুঁকি।
- জঙ্গলে দাবানল ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি: শুষ্ক আবহাওয়ায় বনে আগুন লাগার (Forest Fire) সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে বন্যপ্রাণীদের প্রজননচক্র বিঘ্নিত হতে পারে।
- সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাল প্রাচীর (Coral Reef) বিনষ্ট হতে পারে। মাছের স্থান পরিবর্তনের কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন উপকূলীয় মৎস্যজীবীরা।
প্রতিরোধ সম্ভব? বিজ্ঞানীরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনাকে সরাসরি রোখা সম্ভব নয়। তবে এখন থেকেই সঠিক নজরদারি, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং আগাম প্রস্তুতি নিলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।